ভোট বিপর্যয়ে মমতার মুখে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ডাক, বঙ্গে কি তবে এবার সমীকরণের বদল!
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে আরও শক্তিশালী করার ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কালীঘাটে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই বার্তা দেন। নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হওয়ার পর এটিই ছিল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া। পরাজয়ের গ্লানি ভুলে এখন জাতীয় স্তরের ঐক্যবদ্ধ লড়াইকেই পাখির চোখ করতে চাইছেন তিনি।
পরাজয়ের নেপথ্যে কারচুপির অভিযোগ
নির্বাচনী ফলাফলকে স্রেফ জনমতের প্রতিফলন হিসেবে মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই হার স্বাভাবিক নয়, বরং নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পিত ‘ভোট লুঠের’ পরিণাম। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে এবং বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে ভোটের ফল প্রভাবিত করেছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি সরব হয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাইছে।
তৎপরতা বাড়ছে জাতীয় রাজনীতিতে
রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পরপরই বিরোধী শিবিরের জাতীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন তৃণমূল নেত্রী। সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং উদ্ধব ঠাকরেদের মতো নেতাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এমনকি অখিলেশ যাদব কলকাতায় এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করায় এখন তৃণমূলের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা। সেই লক্ষ্যেই কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাইছেন মমতা।
বঙ্গের সমীকরণে নতুন চ্যালেঞ্জ
বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করা বিরোধী দলগুলো এখন এক মঞ্চে আসবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস ও সিপিএম তৃণমূল এবং বিজেপি—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই লড়াই চালিয়ে আসছে। এখন বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই পুরোনো বিবাদ ভুলে আইএসএফ বা সিপিআই(এম-এল)-এর মতো দলগুলো ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ছাতার তলায় তৃণমূলের সঙ্গে হাত মেলাবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। মমতার এই নতুন জোট বার্তা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।