ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত বাংলা, আক্রান্ত শাসক দলের সাংসদ থেকে জয়ী প্রার্থী

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসছে রাজনৈতিক হিংসা ও অশান্তির খবর। বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং শাসক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—সর্বত্রই জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা।

সাংসদকে লক্ষ্য করে জুতো ও জয়ী প্রার্থীকে মারধর

হিংসার সবথেকে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উদয়নারায়ণপুরে। সেখানকার তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী সমীর পাঁজা জয়ী শংসাপত্র নিতে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছালে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। প্রার্থীর দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়েছে। অন্যদিকে, কোচবিহারে তৃণমূল সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকে লক্ষ্য করে জুতো ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। সাংসদকে ঘিরে ধরে অশালীন মন্তব্য ও বিক্ষোভের জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

কার্যালয় দখল ও ভাঙচুরের রাজনীতি

নির্বাচনী ফলাফলের প্রভাব পড়েছে দলীয় কার্যালয়গুলোর ওপর। টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পরাজয়ের পর বিজয়গড়ে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত কার্যালয় ‘টালিগঞ্জ উন্নয়ন পরিষদ’ দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। একইভাবে মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড এবং হুগলীর ডানকুনির ১১ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কাউন্সিলরের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে সেখানে দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জলপাইগুড়ির ডাবগ্রাম ও কোচবিহারের বিভিন্ন ব্লকেও শাসক দলের একাধিক কার্যালয় দখল ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

অস্থিরতার কারণ ও প্রশাসনিক উদ্বেগ

মূলত ভোটের জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই এই হিংসার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলাফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েমের চেষ্টায় এই ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা বাড়ছে। একদিকে তৃণমূল যখন এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক স্তরেও বাড়ছে উদ্বেগ। এই সংঘাতের জেরে সাধারণ জনজীবনে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *