ভোটের ফল বনাম SIR মিথ: সবচেয়ে বেশি নাম বাতিল হওয়া ১৩ আসনেই ঘাসফুলের জয়!
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনী বা ‘এসআইআর’ (স্পেশাল ইনফরমেশন রিপোর্ট) প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল, নির্বাচনী ফলাফল তাকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছে। প্রাথমিক ধারণা ছিল, ভোটার তালিকা থেকে হাজার হাজার নাম বাদ পড়লে তার প্রভাব শাসক শিবিরের বাক্সে পড়তে পারে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। রাজ্যের যে ২০টি বিধানসভা কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে, তার মধ্যে ১৩টিতেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ভোটার তালিকা সংশোধন ও ফলাফল বিশ্লেষণ
কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে সামশেরগঞ্জ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৭৪ হাজার ৭৭৫ জনের নাম বাদ পড়েছিল। এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল সেখানে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ভোটে জয়লাভ করেছে। একই চিত্র ধরা পড়েছে লালগোলা, ভগবানগোলা, রঘুনাথগঞ্জ এবং মেটিয়াবুরুজের মতো কেন্দ্রগুলোতেও। লালগোলায় ৫৫ হাজার ৪২০ এবং ভগবানগোলায় ৪৭ হাজার ৪৯৩ জন ভোটার বাদ পড়লেও ঘাসফুল শিবিরের জয় আটকানো যায়নি। ২০টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৬টি আসনে এবং কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে ১টি আসন। ফরাক্কায় ৩৮ হাজার ২২২ জনের নাম বাদ গেলেও সেখানে জিতেছে কংগ্রেস।
জয়ের ব্যবধান বনাম বাদ পড়া ভোটার
প্রতিবেদনের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, ১৮৭টি কেন্দ্রে ৫ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি আসনে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা বিজয়ী প্রার্থীর জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ভোটারদের নাম তালিকায় থাকলে ফলাফলের সমীকরণ উল্টে যেতে পারত। বিশেষ করে বিজেপি যে ১১৯টি আসনে জিতেছে, তার মধ্যে ২৮টিতে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ছিল জয়ের ব্যবধানের তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে ২৬টি আসন ২০২১ সালে তৃণমূলের দখলে ছিল। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই নামগুলো বাদ না গেলে ফলাফল আরও অনুকূল হতে পারত।
নির্বাচন কমিশন মৃত ও অযোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতে এই এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করলেও, এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে চর্চা এখন তুঙ্গে। একদিকে যেমন শাসক দল এই প্রক্রিয়ার মধ্যেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে, অন্যদিকে কিছু নির্দিষ্ট আসনে নাম বাদ পড়া যে বিরোধীদের জয়ে সহায়ক হয়েছে, সেই সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।