ভোটচুরির আশঙ্কায় সজাগ ঘাসফুল শিবির, গণনায় নজরদারিতে তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ পর্যবেক্ষক দল

সোমবার রাজ্যের হাইভোল্টেজ ভোটগণনার আগে ইভিএম কারচুপি ও ‘ভোটচুরি’ রুখতে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এজেন্টদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাংসদ ও বর্ষীয়ান নেতাদের ‘কাউন্টিং অবজার্ভার’ বা বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে তৃণমূল। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশের পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কার কোথায় দায়িত্ব: নজরদারিতে হেভিওয়েটরা

গণনা কেন্দ্রে কোনো প্রকার ত্রুটি বা অনিয়ম যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে জেলাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার নজরদারিতে থাকছেন সৌগত রায় ও পার্থ ভৌমিক। দমদম ও ব্যারাকপুরের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন আইপিএস তথা তৃণমূল সাংসদ রাজীব কুমারকে। উত্তর কলকাতায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং দক্ষিণ কলকাতায় ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসকে রাখা হয়েছে। মেদিনীপুর ও হুগলির মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে সায়নী ঘোষ, দেব, জুন মালিয়া ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের ওপর ভরসা রেখেছে দল। এছাড়া মালদহে দোলা সেন এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে জয়প্রকাশ মজুমদারকে পাঠানো হয়েছে।

গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে সংঘাত ও আদালতের রায়

গণনা কেন্দ্রে কাউন্টিং সুপারভাইজার হিসেবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত বাঁধে তৃণমূলের। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট উভয় জায়গাতেই ধাক্কা খায় শাসকদল। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিয়ম অনুযায়ী কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করতেই পারে। এই আইনি প্রতিকূলতার মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের ভিডিও বার্তায় সতর্ক করেছেন, যাতে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে এবং তাঁর সাংবাদিক বৈঠক না করা পর্যন্ত কোনো এজেন্ট টেবিল ছেড়ে না বের হন। তৃণমূলের আশঙ্কা, কম্পিউটারে তথ্য এন্ট্রির সময় কারচুপি হতে পারে, আর সেই ছিদ্রপথ বন্ধ করতেই এই বিশাল পর্যবেক্ষক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *