ভারতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে কি? হাই কোর্টের কড়া নোটিসে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র
বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে বাকি মাত্র এক মাস। অথচ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ ভারতে এখনও চূড়ান্ত হয়নি কোন চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর এই উদ্বেগের মাঝেই বড় পদক্ষেপ নিল দিল্লি হাই কোর্ট। মঙ্গলবার উচ্চ আদালত এই বিষয়ে কেন্দ্র এবং প্রসার ভারতীকে নোটিস পাঠিয়েছে। আদালতের সাফ নির্দেশ, দেশের ফুটবল অনুরাগীদের কথা মাথায় রেখে দূরদর্শন এবং ডিডি স্পোর্টসে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
কেন এই অচলাবস্থা?
সাধারণত ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পেতে বড় বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুরুতে ফিফা ভারতে এই স্বত্বের দাম প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করলেও কোনো সংস্থা আগ্রহ দেখায়নি। পরবর্তীতে দাম কমিয়ে ৩৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩২৫ কোটি টাকা) করা হলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। মূলত আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর সময়ের সঙ্গে ভারতের সময়ের বিস্তর ব্যবধানই এর প্রধান কারণ। বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচ ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। গভীর রাতের এই ম্যাচগুলোয় কাঙ্ক্ষিত দর্শক বা বিজ্ঞাপন মিলবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান চ্যানেল কর্তৃপক্ষ ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো।
আদালতের হস্তক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ফুটবল বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসর সম্প্রচার না হওয়াকে সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হন কয়েকজন ফুটবল অনুরাগী। তাঁদের যুক্তি ছিল, ফিফা বিশ্বকাপকে জাতীয় মর্যাদাসম্পন্ন টুর্নামেন্ট হিসেবে গণ্য করা হয় এবং প্রসার ভারতীর কাছে এটি সম্প্রচারের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও রয়েছে। দিল্লি হাই কোর্ট এই আবেদনে সাড়া দেওয়ায় এখন কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রসার ভারতীর ওপর চাপ বাড়ল। যদি শেষ পর্যন্ত সরকারি চ্যানেলে সম্প্রচার নিশ্চিত হয়, তবে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন। তবে ডিজিটাল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও রয়ে গেছে, যা স্মার্টফোন নির্ভর দর্শকদের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।