ভবানীপুর না নন্দীগ্রাম, কোন আসন ধরে রাখবেন শুভেন্দু? তুঙ্গে জল্পনা

নন্দীগ্রাম: বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্রেই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো জনপ্রতিনিধি দুটি আসন থেকে জয়ী হলে তাঁকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হয়। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী কোন আসনটি নিজের কাছে রাখবেন আর কোনটি ত্যাগ করবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

দলের সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব

বুধবার নন্দীগ্রামে দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই তাঁকে একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত তিনি একা নেবেন না। শুভেন্দু বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলাপরায়ণ। আমার দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যা ঠিক করবেন, আমি সেই পথেই হাঁটব। আমার ব্যক্তিগত মতামত আমি নেতাদের জানাব, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য, তাই সেই আসনটি ধরে রাখার সম্ভাবনা প্রবল।

নন্দীগ্রামের জন্য বিশেষ বার্তা

আসন ছাড়ার জল্পনার মধ্যেই নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন শুভেন্দু। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, বিধায়ক পদে যে-ই থাকুন না কেন, নন্দীগ্রাম ও হলদিয়ার উন্নয়ন এবং গোকুলনগরের হাসপাতালের আধুনিকীকরণের কাজ তিনি নিজে তদারকি করবেন। এলাকার জলকষ্ট দূর করা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে সশরীরে উপস্থিত থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর এই মন্তব্য থেকে অনেকে মনে করছেন, নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিলেও এই জনপদের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান বজায় রাখতে তিনি মরিয়া। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দুকে কোন আসনের প্রতিনিধি হিসেবে বিধানসভায় দেখতে চায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *