ভবানীপুরে আবার ‘মুখ্যমন্ত্রী’, নন্দীগ্রাম ছাড়তেই কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু?
রাজ্য বিধানসভায় শুরু হলো নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ পর্ব। বুধবার বিধানসভার অন্দরে প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের উপস্থিতিতে একে একে শপথ নেন বিধায়করা। তবে সবথেকে বেশি নজর কেড়েছে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট নেতার কেন্দ্রবদল। নন্দীগ্রাম ছেড়ে এখন থেকে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, রেজিনগর ছেড়ে নওদার বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।
শুভেন্দুর কেন্দ্রবদল ও রাজনৈতিক সমীকরণ
গত নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হলেও এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—উভয় আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। রাজনৈতিক সমীকরণের খাতিরে শেষ পর্যন্ত তিনি ভবানীপুরকেই বেছে নিয়েছেন। বুধবার বিধানসভায় ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই তিনি শপথবাক্য পাঠ করেন। শুভেন্দুর এই সিদ্ধান্তের ফলে নন্দীগ্রাম আসনটি বর্তমানে বিধায়ক শূন্য হয়ে পড়েছে, যার ফলে ওই কেন্দ্রে আগামী দিনে উপনির্বাচন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর এই কেন্দ্রবদল রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
সাজ সাজ রব বিধানসভায় ও স্পিকার নির্বাচন
এদিন সকাল থেকেই বিধানসভা চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও সাজ সাজ রব। প্রোটেম স্পিকার হিসেবে তাপস রায় নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে মঙ্গলবার লোকভবনে রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তাপস রায়। বিধানসভা সূত্রের খবর, বুধ ও বৃহস্পতিবার বিধায়কদের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া চলার পর আগামী ১৫ মে শুক্রবার নতুন অধ্যক্ষ বা স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অভিজ্ঞ রাজনীতিক তাপস রায়কেই এই পদের জন্য সরকার মনোনীত করতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
ক্ষমতার পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট হয়েছে বিধানসভার অন্দরেও। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই পুরো বিধানসভা ভবন এবং আশপাশের এলাকা গেরুয়া আলো ও রঙের আবহে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিধানসভার কাজকর্মে কী ধরণের পরিবর্তন আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।