বিপজ্জনক হতে পারে অপরিচ্ছন্ন অন্তর্বাস ও বিছানা, রোগ এড়াতে চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শ
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা কেবল বাহ্যিক সাজসজ্জায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহৃত পোশাক এবং গৃহস্থালি সামগ্রীর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় চিকিৎসক মনন ভোরা এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছেন, অন্তর্বাস থেকে শুরু করে বিছানার চাদর নিয়মিত পরিষ্কার না করলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে মারাত্মক সংক্রমণ। অনেক সময় আমরা আলস্যবশত এই বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যাই, যা দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগ বা অ্যালার্জির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিয়মিত পরিষ্কারের সঠিক সময়সূচী
চিকিৎসকদের মতে, প্রতিটি ব্যবহারের পর অন্তর্বাস ধুয়ে ফেলা বাধ্যতামূলক। একইভাবে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার বিছানার চাদর এবং ৩-৪ দিন অন্তর বালিশের কভার পরিবর্তন করা উচিত। বিশেষ করে যাদের ত্বকে ব্রণ বা তৈলাক্ত ভাব রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বালিশের কভার দ্রুত পরিবর্তন করা জরুরি। এছাড়া তোয়ালে দুই বা তিনবার ব্যবহারের পর ধুয়ে ফেলা প্রয়োজন, কারণ ভেজা তোয়ালেতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করে।
অবহেলায় বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি
প্রতিদিনের ঘাম, লালা এবং মৃত চামড়া বিছানা ও পোশাকে আটকে থাকে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও ক্ষতিকর জীবাণুর উৎস। চিকিৎসক ভোরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, বালিশ প্রতি ৬ মাস অন্তর এবং কম্বল ২-৩ মাস পর পর পরিষ্কার করা উচিত। এমনকি জিন্স প্যান্টও ৪-৫ বার পরার পর ধুয়ে ফেলা ভালো। সঠিক সময়ে এই সামগ্রীগুলো পরিষ্কার না করলে ছত্রাক সংক্রমণ (Fungal Infection) ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ার তীব্র সম্ভাবনা থাকে।
এক ঝলকে
- অন্তর্বাস প্রতিবার ব্যবহারের পর এবং বিছানার চাদর সপ্তাহে অন্তত একবার ধোয়া উচিত।
- ব্রণের সমস্যা এড়াতে বালিশের কভার ৩-৪ দিন অন্তর পরিবর্তন করা জরুরি।
- তোয়ালে ২-৩ বার ব্যবহারের বেশি ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
- টুথব্রাশ প্রতি ৩ মাস অন্তর অথবা ব্রাশের ব্রিসল নষ্ট হওয়া মাত্রই বদলে ফেলতে হবে।