প্রধানমন্ত্রীর শপথের আগেই রক্তপাত! শুভেন্দুর সহায়কের মৃত্যুতে রণংদেহি মেজাজে বিজেপি
ভোটের ফলপ্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের মৃত্যু ঘিরে শাসকদলের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তের অভিযোগ তুলল বিজেপি। বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাত্র দু’দিন আগে এই ধরণের প্রাণঘাতী হামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও চক্রান্তের অভিযোগ
বিজেপির দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় যে ধরণের পেশাদারিত্ব ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট যে এর পিছনে একটি নির্দিষ্ট নীল নকশা কাজ করছে। শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, রাজ্যে বর্তমানে চরম অরাজকতা বা ‘অ্যানার্কি’ চলছে এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে সম্পূর্ণ রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। বারাসাত ও মধ্যমগ্রাম অঞ্চলকে অনুপ্রবেশকারীদের ডেরা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি দাবি করেন, এই অঞ্চল থেকেই দুষ্কৃতীরা মদত পাচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার পূর্বাভাস
নির্বাচনী জয়কে ‘প্রত্যাখ্যানের ভোট’ হিসেবে উল্লেখ করে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন যে, গত কয়েকদিনে তাদের অন্তত তিনজন কর্মী নিহত হয়েছেন। দলীয় কর্মীদের এখনই উত্তেজিত না হওয়ার পরামর্শ দিলেও শমীক ভট্টাচার্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বিজেপিকে দুর্বল ভাবলে ভুল করা হবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে, তবে প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরের মুখে বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ঠের মৃত্যু প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
এক ঝলকে
- বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের মৃত্যুতে শাসকদলের বিরুদ্ধে বড়সড় চক্রান্তের অভিযোগ বিজেপির।
- শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর শপথের আগে এটি একটি পরিকল্পিত ‘বার্তা’ এবং বিজেপির ওপর সরাসরি আক্রমণ।
- রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে গেরুয়া শিবির।
- বারাসাত ও সংলগ্ন এলাকাকে অনুপ্রবেশকারী ও জাল নথির উৎস হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ।