বিজেপিকে ঠেকাতে নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে বামেরা! বড় ভবিষ্যদ্বাণী অশোক ভট্টাচার্যের
ভোট গণনার চূড়ান্ত মুহূর্তের ঠিক আগে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় আসার ইঙ্গিত দিলেন বর্ষীয়ান বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, এবারের নির্বাচনে বামপন্থার পুনরুত্থান শুধু সময়ের অপেক্ষা। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই যাতে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে না পারে, সেটাই এখন বাম শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। গণতান্ত্রিক শক্তির সঠিক বিকাশ এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে সিপিএম এবার নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তৃতীয় শক্তির প্রয়োজনীয়তা ও আসনতত্ত্ব
অশোক ভট্টাচার্যের দাবি অনুযায়ী, রাজ্যে এবার বাম-কংগ্রেস এবং আইএসএফ জোট একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আসনের সম্ভাব্য হিসেব দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, বামেরা এবার ১০টির বেশি আসনে জয়লাভ করতে পারে। পাশাপাশি জোটসঙ্গী কংগ্রেস ও আইএসএফ-ও বেশ কিছু আসনে জয়ী হবে। তাঁর মতে, দ্বিমুখী লড়াইয়ের আবহে এই তৃতীয় শক্তির উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটিই রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের রাজনীতিতে তৃণমূল ও বিজেপির যে মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, এই তৃতীয় শক্তির উত্থান সেই ছককে ভেঙে দিতে পারে। যদি বাম-কংগ্রেস জোট ১০ থেকে ১৫টি আসন পায়, তবে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তারা ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। এর ফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে কোনো বড় দলই বামপন্থীদের সমর্থন ছাড়া স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে পারবে না। এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন বামপন্থার পুনর্জাগরণ ঘটাবে, তেমনই রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুণগত মান উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।