বাদ পড়া ২৭ লক্ষ ভোটার কি পাবেন সরকারি সুবিধা? নাগরিকত্ব নিয়ে রাজ্যজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ
রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় তাঁদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যাদের নাম তালিকাভুক্ত নেই এবং যাদের আপিল বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তারা আপাতত কোনো সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে শুধু আর্থিক নয়, বরং নাগরিকত্বের পরিচয় নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
পরিচয় সংকট ও নাগরিকত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তা
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে দেখছেন না ভুক্তভোগীদের একাংশ। পার্ক সার্কাস থেকে মেটিয়াবুরুজ— সর্বত্রই একই প্রশ্ন, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা কি ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব প্রমাণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে? অনেকের আশঙ্কা, এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে তাঁদের আরও কঠোর আইনি লড়াই বা নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে। বিশেষ করে একই পরিবারের একজনের নাম বাদ পড়া এবং অন্যদের নাম থাকা নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সচল রাখা বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ভয় পাচ্ছেন নাগরিকরা।
সরকারি অবস্থান ও যাচাই প্রক্রিয়া
সরকারি সূত্রের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তি বা অযোগ্যদের চিহ্নিত করা হচ্ছে যাতে সরকারি অর্থের অপচয় না হয়। যে ৭ লক্ষ আবেদনকারীর আপিল বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে পুনরায় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, যোগ্য নাগরিকরা যাতে কোনোভাবে বঞ্চিত না হন তা নিশ্চিত করা হবে, তবে আপাতত আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুবিধা প্রদান স্থগিত থাকতে পারে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকার এই জটিলতা শুধু আইনি লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের আগে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার হারানো এবং সরকারি সুবিধা বন্ধ হওয়া রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যেমন অনিশ্চয়তার কারণে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে, অন্যদিকে এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। এখন দেখার, ট্রাইব্যুনালের রায়ে কতজন তাঁদের হারানো ভোটাধিকার ও সরকারি সুবিধা ফিরে পান।