বাতিল নিট পরীক্ষা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল এনটিএ
প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো অভিযোগ ও বিতর্কের মুখে অবশেষে ২০২৬ সালের নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। গত ৩ মে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রবেশিকা পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে মঙ্গলবার এনটিএ-র মহানির্দেশক অভিষেক সিং জানান, পরীক্ষা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গোটা ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যে তদন্তের গতিপ্রকৃতি
এনটিএ প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, ৭ মে রাতে কিছু হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রাথমিক সূত্র মেলে। ৮ ও ৯ মে অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর ১০ ও ১১ মে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। যদিও পরীক্ষার দিন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তবুও প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় কোনও আপস করতে রাজি নয় সংস্থা। নাসিকের একটি প্রিন্টিং প্রেসের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ দানা বেঁধেছে, যা এখন সিবিআই খতিয়ে দেখবে। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখবেন এই জালিয়াতি কি কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যে সীমাবদ্ধ ছিল নাকি এর জাল সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এনটিএ ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন ১২০টি টেলিগ্রাম চ্যানেল ব্লক করেছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও এনটিএ আশ্বস্ত করেছে যে, পুনরায় পরীক্ষার জন্য নতুন করে কোনও রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না বা ফি দিতে হবে না। পূর্ববর্তী আবেদনের তথ্য ও পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোই পুনরায় পরীক্ষার জন্য বৈধ থাকবে। এমনকি আগের নেওয়া ফি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সংস্থা, যা এনটিএ-র ওপর বিশাল আর্থিক বোঝা তৈরি করলেও স্বচ্ছতার খাতিরে তা মেনে নেওয়া হয়েছে।
খুব দ্রুতই পুনরায় পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ও অ্যাডমিট কার্ড সংক্রান্ত তথ্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এনটিএ-র পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তির ওপর ভরসা রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। মহানির্দেশক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যারা মেধাবী ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।