বাংলার মসনদে কে? ইভিএম খুলতেই তৃণমূল-বিজেপি সেয়ানে সেয়ানে টক্কর! বড় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন শুভেন্দু অধিকারী
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক নাটকীয়তা। সোমবার সকালের প্রাথমিক প্রবণতা (Trend) অনুযায়ী, বেশ কিছু আসনে তৃণমূলকে পেছনে ফেলে বিজেপি এগিয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী মুডে ধরা দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। গণনাকেন্দ্রের বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, হিন্দু প্রধান এলাকাগুলোর জনমত স্পষ্টভাবেই পদ্ম শিবিরের পক্ষে গিয়েছে এবং বাংলায় এবার সরকার পরিবর্তন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
হিন্দু-মুসলিম ভোট ও কংগ্রেস ফ্যাক্টর
গণনার মাঝপথে দেওয়া এক বিবৃতিতে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ইভিএমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী হিন্দু ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার বিজেপিকে সমর্থন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে কংগ্রেসের শক্তিশালী উত্থান তৃণমূলের নিশ্চিত মুসলিম ভোটব্যাংকে ফাটল ধরিয়েছে। শুভেন্দুর ভাষায়, “আগের মতো মুসলিম ভোট এবার আর তৃণমূলের একচেটিয়া সম্পত্তিতে পরিণত হয়নি, যার সরাসরি সুফল পাচ্ছে বিজেপি।”
নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে স্বস্তির হাসি
নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রাম নিয়ে শুভেন্দু রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। প্রথম রাউন্ডের শেষে প্রায় ৩০০০ ভোটে এগিয়ে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি ১০০০-১১০০ ভোটের লিড আশা করেছিলাম, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা সব রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে।” শুধু নন্দীগ্রাম নয়, খোদ মমতার কেন্দ্র ভবানীপুরেও শুভেন্দুর প্রাথমিক লিড বিজেপি শিবিরে বাড়তি অক্সিজেন জোগাচ্ছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, গ্রামীণ এলাকার ইভিএম খুললে এই ছবি দ্রুত বদলে যাবে।
লড়াই এখনও হাড্ডাহাড্ডি
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে আসন সংখ্যার লড়াই এখন ‘কাঁটে কি টক্কর’ পর্যায়ে রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পোস্টাল ব্যালট ও প্রাথমিক রাউন্ডের ফলের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিকেলের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হ্যাটট্রিক প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন সফল হবে, না কি শুভেন্দুর দাবি মতো বাংলায় প্রথমবার কোনো অ-তৃণমূল ও অ-বামপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।