বঙ্গে ডবল ইঞ্জিন সরকার, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন পথে হাঁটবে নতুন প্রশাসন?

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলায় ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠিত হওয়ায় এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো। এতদিন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে অনেক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন রাজ্যবাসী। এবার সেই বঞ্চনা ঘুচিয়ে কেন্দ্রের একগুচ্ছ মেগা প্রকল্প রাজ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

স্বাস্থ্য ও আবাসে নতুন দিগন্ত

রাজ্যে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পকে সবুজ সংকেত দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এই প্রকল্পের আওতায় দারিদ্রসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলো বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের বিকল্প হিসেবে এটি আরও বিস্তৃত পরিষেবা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহর এলাকায় গৃহহীনদের মাথার ওপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করা হবে। আবাসের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের বকেয়া টাকা দ্রুত রাজ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নারী ও যুবকল্যাণে আর্থিক সুরক্ষা

রাজ্যের বিদায়ী সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের জনপ্রিয়তাকে মাথায় রেখে বিজেপি ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারের মহিলারা মাসে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ। বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য আসছে ‘যুবশক্তি ভরসা’ প্রকল্প, যেখানে শর্তসাপেক্ষে মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে; বিশেষ করে ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রী স্কুল’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণে জোর দেওয়া হবে।

পরিকাঠামো ও মৎস্যজীবীদের উন্নয়ন

জল জীবন মিশনের গতি ত্বরান্বিত করে প্রতিটি ঘরে ট্যাপকলের মাধ্যমে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এখন অগ্রাধিকারের তালিকায়। এর পাশাপাশি ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের আধুনিক সরঞ্জাম, বিমা এবং সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের শাসন থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং কেন্দ্রীয় বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *