বঙ্গে গেরুয়া ঝড়, কর্মীদের কুর্নিশ জানিয়ে ‘সোনার বাংলায় নতুন ভোরে’র ডাক শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে তৈরি হলো এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখল ভারতীয় জনতা পার্টি। ঘাসফুল শিবিরের দাপট রুখে দিয়ে নবান্নের দখল নিল পদ্মশিবির। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যের সাধারণ মানুষকে প্রণাম জানানোর পাশাপাশি দলের লড়াকু কর্মীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই জয়কে ‘সোনার বাংলায় নতুন ভোর’ বলে অভিহিত করেছেন।

সংগ্রামের স্বীকৃতি ও মোদি-ম্যাজিক

২০২০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করার পর থেকেই রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একুশের নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য না এলেও দমে যাননি তিনি। গত কয়েক বছরে বুথ স্তর থেকে সংগঠনকে মজবুত করার যে লড়াই তিনি চালিয়েছেন, সোমবারের নির্বাচনী ফলাফল তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নিজের বার্তায় শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন যে, এই রায় আসলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্নের প্রতি বাংলার মানুষের অটল আস্থার বহিঃপ্রকাশ। তিনি উল্লেখ করেন, বিজেপি কর্মীরা নিজেদের রক্ত ও ঘাম দিয়ে এই বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন।

পরিবর্তনের হাওয়া ও আগামীর লক্ষ্য

একুশের নির্বাচনে মাত্র ৭৭টি আসনে থমকে যাওয়া বিজেপি কীভাবে ছাব্বিশে এসে ম্যাজিক ফিগার ছাড়িয়ে গেল, তা নিয়ে ইতিপূর্বেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, মানুষ ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশের পরিবর্তে প্রগতি এবং উন্নয়নকে বেছে নিয়েছেন। রাজ্যের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ সংগ্রামের পর ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘সোনার বাংলা’ পুনর্গঠনে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *