‘ফল নির্ধারিত, শুধু ঘোষণার অপেক্ষা’— সরকার গড়া নিয়ে চরম আত্মবিশ্বাসী দিলীপ ঘোষ
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সকালে মেদিনীপুর থেকে কলকাতা—বিজেপি শিবিরে আত্মবিশ্বাসের সুর তুঙ্গে। খড়গপুর সদরের প্রার্থী তথা বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ সোমবার সকালে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলার মানুষ ইতিমধ্যেই তাঁদের রায় দিয়ে দিয়েছেন এবং ইভিএমে সেই ফল নির্ধারিত হয়ে আছে। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তিনি দাবি করেন, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে এবার বাংলায় বিজেপিই ক্ষমতায় আসছে।
দিলীপ ঘোষের প্রধান বক্তব্যসমূহ:
- নির্ধারিত জয়: দিলীপ ঘোষ বলেন, “মানুষ যে আস্থা নিয়ে ভোট দিয়েছেন, তার প্রতিফলন আজ দেখা যাবে। ফল কী হবে তা আগেই ঠিক হয়ে গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।”
- বাংলার ভবিষ্যৎ ও প্রতিবেশী প্রসঙ্গ: রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার ‘বাংলাদেশ’ ইস্যু টেনে এনে তিনি বলেন, “নতুন সরকার বাংলাকে ভারতের মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করবে; বাংলাকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হতে দেওয়া হবে না।”
- আইনশৃঙ্খলা ও কমিশন: রাজ্যে বিগত বছরগুলোতে ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আগে মহিলাদের ভোটার কার্ড কেড়ে নেওয়া হতো। এবার নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়িতে মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছেন। তাই এবার ফল অন্যরকম হবে।”
গণনা ও নিরাপত্তার সার্বিক চিত্র (বেলা ১১টা ৩০ মিনিট):
| বিষয় | বর্তমান পরিস্থিতি |
| নিরাপত্তা | কলকাতা-সহ রাজ্যজুড়ে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা। গণনাকেন্দ্রের বাইরে ১৪৪ ধারা জারি। |
| সার্বিক ট্রেন্ড | বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে সমানে-সমানে টক্কর। বিজেপি ম্যাজিক ফিগার (১৪৮)-এর দিকে এগোচ্ছে। |
| হেভিওয়েট কেন্দ্র | ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে, তবে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী লিড ধরে রেখেছেন। |
বুথফেরত সমীক্ষা ও বর্তমান বাস্তবতা
অধিকাংশ এক্সিট পোল (যেমন ‘চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস’ ও ‘ম্যাট্রাইজ’) বিজেপিকে কিছুটা এগিয়ে রাখলেও, গণনার শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস কড়া টক্কর দিচ্ছে। দিলীপ ঘোষের দাবি অনুযায়ী ‘পরিবর্তনের সুনামি’ আছড়ে পড়ে কি না, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ম্যাজিক প্রত্যাবর্তন ঘটায়—তার উত্তর মিলবে আর কয়েক রাউন্ডের মধ্যেই।
শান্তি বজায় রাখার বার্তা
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আজ কোনো বিজয় মিছিল করা যাবে না। দিলীপ ঘোষও জানিয়েছেন, নির্বাচন যেমন শান্তিপূর্ণ হয়েছে, গণনাও তেমনই হবে এবং নতুন সরকার শান্তিপূর্ণভাবেই শপথ নেবে।