পৌরসভা বিল্ডিং প্ল্যান দুর্নীতি মামলায় অবশেষে আত্মসমর্পণ, প্রাক্তন তৃণমূল পৌরপ্রধান গ্রেফতার
কোচবিহার জেলার দিনহাটা পৌরসভার বহুচর্চিত বিল্ডিং প্ল্যান বা নকশা অনুমোদন দুর্নীতি মামলায় অবশেষে এল এক বড়সড় মোড়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইনি চাপ ও পুলিশের লাগাতার অভিযানের মুখে পড়ে অবশেষে দিনহাটা থানায় এসে আত্মসমর্পণ করলেন পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরী। আত্মসমর্পণের পরেই পুলিশ তাঁকে অফিশিয়ালি গ্রেফতার করে।
উত্তরবঙ্গ তথা কোচবিহারের দাপুটে তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই প্রাক্তন পৌরপ্রধানের গ্রেফতারে দিনহাটার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বাড়িতে তল্লাশির পর থেকেই পলাতক ছিলেন গৌরীশঙ্কর
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিনহাটা পৌরসভার বিল্ডিং প্ল্যান বা বাড়ির নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ভুয়ো নথিপত্র ব্যবহার এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক কারচুপির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই দুর্নীতি মামলার তদন্তে ব্যাপক গতি আনে পুলিশ প্রশাসন। কিছুাদন আগেই গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরীর বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও উদ্ধার হয়। সেই তল্লাশি অভিযানের পর থেকেই গ্রেফতারি এড়াতে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন এই হেভিওয়েট নেতা। অবশেষে কোনো উপায় না দেখে আদালতের নির্দেশের আগেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন তিনি।
ইতিমধ্যেই গ্রেফতার উদয়ন ঘনিষ্ঠ অপর নেত্রী মৌমিতা
এই একই দুর্নীতি মামলায় পুলিশি তৎপরতা যে কতটা তুঙ্গে, তার প্রমাণ মিলেছে ইতিপূর্বেই। গত কয়েক দিনের তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই উদয়ন গুহর আরেক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রী মৌমিতা ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছে। মৌমিতাকে জেরা করেই এই দুর্নীতির জাল কতটা গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে এবং এর পেছনে আর কোনো শীর্ষ নেতৃত্বের হাত রয়েছে কি না, সেই সংক্রান্ত একাধিক তথ্য পুলিশের হাতে আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই প্রাক্তন চেয়ারম্যান গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরীর ওপর চাপ বাড়াচ্ছিল পুলিশ।
দিনহাটায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা
দীর্ঘদিন ধরে দিনহাটা পৌরসভায় তৃণমূলের অন্দরে উদয়ন গুহর ডান হাত ও বাম হাত হিসেবে পরিচিত ছিলেন মৌমিতা ও গৌরীশঙ্কর। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর একের পর এক দুর্নীতি মামলায় যেভাবে উদয়ন ঘনিষ্ঠ নেতৃত্ব খাঁচাবন্দি হচ্ছেন, তাতে দিনহাটার ঘাসফুল শিবিরের রাজনৈতিক জমি কার্যত অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ধৃত প্রাক্তন পৌরপ্রধানকে আজই কোচবিহার আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।