পুলিশের সামনেই ‘ডিম থেরাপি’, জনরোষ নাকি পরিকল্পিত?
রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীদের লক্ষ্য করে সাম্প্রতিককালে ‘ডিম ছোড়া’ বা ‘ডিম থেরাপি’র মতো ঘটনার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৩০ মে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার পর থেকে বিগত দুই সপ্তাহে অন্তত এক ডজন তৃণমূল নেতা ও কর্মী এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে কুণাল ঘোষ, সব্যসাচী দত্ত, বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত এবং জয়প্রকাশ মজুমদারের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। নেতাদের প্রতি এই অপমানজনক আচরণের পেছনে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ নাকি কোনো সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চক্রান্ত কাজ করছে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের নিষ্ক্রিয় ও নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত হলেও তাঁর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। ফৌজদারি আইনজীবীদের মতে, প্রকাশ্যে ডিম ছুড়ে মারা দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর বিপরীতে আইনত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এদিকে পুলিশের একাংশ একে জনরোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ একে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা ও ক্ষমতার আস্ফালন হিসেবেই চিহ্নিত করছেন।