পাসপোর্ট থাকলেই আপনি ভারতীয় নন! বিদেশ মন্ত্রকের বড় ঘোষণা
ভারতীয় পাসপোর্ট নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক। ১৪তম পাসপোর্ট সেবা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাসপোর্ট মূলত বিদেশ ভ্রমণের সুবিধার্থে সরকার প্রদত্ত একটি ভ্রমণ নথি (ট্রাভেল ডকুমেন্ট)। পাসপোর্টের শেষ পাতায় উল্লেখ অনুযায়ী এটি ভারত সরকারের সম্পত্তি এবং সরকার চাইলে তা জমা দিতে বাধ্য থাকা গ্রাহকদের জন্য বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি আধার কার্ড এবং ভোটার আইডি কার্ডকেও নাগরিকত্বের দলিল হিসেবে গণ্য করা হয় না বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। আধার কার্ড মাত্র একটি পরিচয়পত্র এবং ভোটার কার্ড মূলত ভোটাধিকার প্রয়োগের একটি আইনি নথি।
ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ও শর্তাবলি রয়েছে। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাবা-মার মধ্যে অন্তত একজনকে ভারতীয় হতে হয়। এছাড়া ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ বা তার পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাবা-মা উভয়কে অথবা একজনকে ভারতীয় এবং অন্যজনকে বৈধ অভিবাসী হতে হয়।
নাগরিকত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করার পাশাপাশি পাসপোর্ট পরিষেবায় সাফল্যের কথা জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। ২০২৫ সালে ভারত সরকার সর্বোচ্চ ১.৫ কোটি পাসপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদান করেছে, যার মধ্যে নতুন পাসপোর্ট ১.৩৯ কোটি। পুলিশ ভেরিফিকেশন বাদে বর্তমানে মাত্র ৬ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে সারা দেশে ৫৪৫টি পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র রয়েছে এবং ই-পাসপোর্টের প্রচলনও সফলভাবে শুরু হয়েছে।