পারফরম্যান্স নয়, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জের! কেন টি-টোয়েন্টি দল থেকে দূরে শুভমান গিল?
নিজস্ব প্রতিবেদন: সদ্যসমাপ্ত আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের জার্সিতে ৭০০-র বেশি রান করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পরেও ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে শুভমান গিলের জায়গা না হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিস্তর জল্পনা। ১৫ বছরের কিশোর বৈভব সূর্যবংশীর জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠেছিল। তবে বোর্ড সূত্রের এক বিস্ফোরক রিপোর্টে স্পষ্ট হয়েছে, গিলের এই ‘ব্রাত্য’ থাকার নেপথ্যে পারফরম্যান্সের চেয়ে বড় কারণ রয়েছে বোর্ডের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য।
কেন এই বাদ পড়া?
বোর্ড সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুভমান গিলের বাদ পড়ার কারণ কোনোভাবেই তাঁর পারফরম্যান্সের খামতি নয়। বরং ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে বোর্ডের বিশেষ রোডম্যাপ রয়েছে:
- দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য: বোর্ড গিলকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যেন তিনি আপাতত টেস্ট এবং ওয়ানডে ফরম্যাটের ওপরই পূর্ণ মনোযোগ দেন।
- নেতৃত্বের চাপ: আগামী বছরগুলিতে গিল টেস্ট এবং ওয়ানডেতে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলাবেন। প্রায় ৯টি টেস্ট এবং ৩৫টি ওয়ানডেতে তিনি দলকে নেতৃত্ব দেবেন বলে খবর। এই বাড়তি দায়িত্বের চাপ সামলে তিন ফরম্যাটে ফিট থাকা খুবই কঠিন, তাই তাঁকে টি-টোয়েন্টি থেকে আপাতত দূরে রাখা হয়েছে।
- ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: বোর্ড গিলকে টি-টোয়েন্টি থেকে আপাতত ‘বিশ্রাম’ দিয়েছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বছর দুয়েক পরে আবারও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দরজা খুলবে গিলের জন্য। ২০২৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং অলিম্পিককে পাখির চোখ করেই ভারতীয় ক্রিকেটের ‘প্রিন্স’-কে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সঞ্জু ও ঈশানদের প্রসঙ্গ:
গত বছর এশিয়া কাপে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেলেও টি-টোয়েন্টিতে গিলের ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। সেই তুলনায় সঞ্জু স্যামসন বা ঈশান কিষানদের মতো ব্যাটাররা সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে নিজেদের প্রমাণ করেছিলেন, যার ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকেই বাদ পড়েছিলেন শুভমান। তবে বর্তমানের এই ‘বাদ পড়া’ কেবলই একটি কৌশলগত বিরতি বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
সব মিলিয়ে, আপাতত বড় ফরম্যাটের রাজা হিসেবেই শুভমানকে দেখছে বিসিসিআই। ২০২৭-এর মেগা ইভেন্টগুলির জন্য তাঁকে আগলে রাখতেই এই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।