পানিহাটিতে প্রচারে গিয়ে হেনস্থার শিকার আরজি করের নির্যাতিতার মা চরম উত্তজনা এলাকায়
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়েছে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে। বুধবার পানিহাটির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিমোহন চ্যাটার্জি রোড এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ, যিনি আরজি করের নির্যাতিতার মা হিসেবে পরিচিত। এদিন বাড়ি বাড়ি প্রচার চালানোর সময় একদল মহিলা তাঁকে লক্ষ্য করে কটাক্ষ এবং আক্রমণাত্মক স্লোগান দেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ বাহিনী।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের তির
এদিন সকালে রত্না দেবনাথ তাঁর সমর্থকদের নিয়ে এলাকায় প্রচার শুরু করেন। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রচার চলাকালীন তৃণমূল সমর্থিত একদল মহিলা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। রত্না দেবনাথের দাবি অনুযায়ী, প্রথমে বিষয়টি সাধারণ স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে তা শারীরিক হেনস্থার পর্যায়ে পৌঁছায়।
বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলি হলো:
- তৃণমূল আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী এবং আশাকর্মী তাঁর পথ আটকে বিক্ষোভ দেখান।
- তাঁর মুখে ফুল ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং চুলে আঘাত করা হয়।
- বিজেপি কর্মীদের গায়ে হাত তোলার এবং মারধর করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
রাজনৈতিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি যুক্তি
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পানিহাটির রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব একে তৃণমূলের ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, একজন শোকাতুর মা যখন বিচার পাওয়ার লড়াইকে নির্বাচনী ময়দানে নিয়ে এসেছেন, তখন তাঁকে ভয় দেখাতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করবেন না। তবে তাঁর দাবি, বিজেপির বহিরাগত কিছু লোক এলাকায় প্রচার করার সময় দাবি করেছিল যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। এই মন্তব্যে স্থানীয় মহিলারা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করেছেন। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, বিজেপি কর্মীরাই বিক্ষোভকারী মহিলাদের গায়ে হাত দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
প্রভাব ও বিশ্লেষণ
আরজি করের ঘটনার বিচারকে মূল ইস্যু করে পানিহাটিতে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন নির্যাতিতার মা। এই ঘটনার পর এলাকায় মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন বিজেপি এই ইস্যুকে ব্যবহার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নারীদের নিরাপত্তার অভাব তুলে ধরার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে তৃণমূল বিষয়টিকে উস্কানিমূলক প্রচারের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা দিচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই ধরনের উত্তেজনা জনমত গঠনে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
একঝলকে
- স্থান: পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র, ৬ নম্বর ওয়ার্ড।
- মূল ঘটনা: বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথকে (আরজি করের নির্যাতিতার মা) প্রচারে বাধা ও হেনস্থার অভিযোগ।
- অভিযোগকারী: রত্না দেবনাথ ও বিজেপি নেতৃত্ব।
- অভিযুক্ত: তৃণমূল সমর্থক এবং স্থানীয় আশাকর্মীরা।
- কারণ: তৃণমূলের দাবি, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধের অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাধারণ মহিলাদের ক্ষোভ।
- বর্তমান পরিস্থিতি: এলাকায় চরম উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর।