পরিবর্তনের ভোরে কালীঘাটে সস্ত্রীক রাজ্যপাল, প্রার্থনা করলেন বাংলার সমৃদ্ধির জন্য
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরদিনই রাজভবন থেকে কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছালেন রাজ্যপাল আর এন রবি। মঙ্গলবার সকালে সস্ত্রীক মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন তিনি। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক পরেই তাঁর এই মন্দির দর্শন এবং রাজ্যের সমৃদ্ধি কামনা রাজনৈতিক মহলে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
শুভেচ্ছা ও জনকল্যাণের প্রার্থনা
কালীঘাট মন্দিরে মা কালীর দর্শন ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর রাজভবনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সফরের ছবি শেয়ার করা হয়। সেখানে রাজ্যপাল জানান, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী রবি পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ এবং রাজ্যের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেছেন। দীর্ঘ ভোট প্রক্রিয়া এবং ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রাজ্যপালের এই সৌজন্যমূলক অবস্থানকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক প্রভাব
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে গত পয়লা বৈশাখে লোকভবনের একটি অনুষ্ঠানে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। জিডিপির হারের কথা উল্লেখ করে তিনি তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই সময় রাজ্যপালের এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে পৌঁছায় এবং শাসক দল তাঁর তীব্র সমালোচনা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজ্যপালের এই মন্দির সফর কেবল ধর্মীয় রীতিনীতি নয়, বরং নতুন সরকারের সূচনালগ্নে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে এক ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। একদিকে যেমন তিনি বাংলার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের কথা বলেছিলেন, তেমনই এখন মা কালীর চরণে প্রার্থনা জানিয়ে রাজ্যের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের দিকেই ইঙ্গিত করলেন তিনি। আগামী দিনে নতুন প্রশাসনের সঙ্গে রাজভবনের সম্পর্ক কেমন হবে, এই সফরকে তারই একটি প্রাথমিক সঙ্কেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।