পঞ্চায়েত দফতরে লোক নেই, ‘ফিল্ডে’ নেমে কাজ করার বার্তা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের
রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং প্রাণী সম্পদ দফতরের দায়িত্ব পেয়েই পুরোদমে কাজে নেমে পড়লেন দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার বিধাননগরের পঞ্চায়েত দফতরে পৌঁছে আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের অফিস থেকেই এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে ফাইলে সই করা তাঁর ধাতে নেই; বরং মানুষের সমস্যা সমাধানে সরাসরি মাঠে নামতেই তিনি বেশি আগ্রহী।
শূন্য পদ ও ফান্ডের অভাব নিয়ে উদ্বেগ
দফতরে গিয়ে কাজের পরিধি খতিয়ে দেখার পর দিলীপ ঘোষের প্রধান অভিযোগ ছিল কর্মীসংকট নিয়ে। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগ না হওয়ায় পঞ্চায়েত দফতরে প্রয়োজনীয় অফিসারের অভাব রয়েছে, যার ফলে সঠিক পরিকল্পনা বা কাজের রূপায়ণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফান্ডের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আবাস যোজনাসহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা দ্রুত রাজ্যে আসতে চলেছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মাঠে নেমে সমাধানের অঙ্গীকার
বিগত সরকারের আমলে পঞ্চায়েত স্তরে চলা নানা অনিয়মের দিকে ইঙ্গিত করে দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, “পঞ্চায়েতে অনেক নাটক হয়, সেগুলো যাতে না হয় তার রাস্তা বের করতে হবে।” তিনি জানান, বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর যথেষ্ট রয়েছে, এখন তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজের ধারাটি বুঝে নিতে চাইছেন। তাঁর কথায়, “দফতরে বসার অভ্যাস আমার নেই। আমি ফিল্ডে যাব।” কর্মীদের সঙ্গে কাজের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা সেরে নেওয়ার পর খুব শীঘ্রই তিনি গ্রাম বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে সরেজমিনে পরিদর্শনে বেরোবেন বলে জানা গেছে। পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে কর্মী নিয়োগ ও ফান্ডের জট কাটানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য হতে চলেছে।