নির্বাচন কমিশনের তথ্যে স্পষ্ট প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা এবং পোস্টাল ব্যালটে তৃণমূলের ভরাডুবি
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে জনমতের পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটেও বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ঘাসফুল শিবির। নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্যানুসারে, সরকারি কর্মচারী ও বিশেষ ভোটদাতাদের দেওয়া এই ব্যালটে নজিরবিহীন প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার চিত্র ফুটে উঠেছে। মোট পোস্টাল ব্যালটের প্রায় ৮০ শতাংশই গিয়েছে শাসকদলের বিপক্ষে, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে প্রশাসনিক স্তরে অসন্তোষের একটি বড় প্রতিফলন।
ভবানীপুরে নামমাত্র স্বস্তি ও রাজ্যজুড়ে বিপর্যয়
রাজ্যের অধিকাংশ আসনেই পোস্টাল ব্যালটে তৃণমূল কংগ্রেস কোণঠাসা হলেও একমাত্র ভবানীপুর কেন্দ্রে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি পেয়েছেন ৪৬৩টি ভোট এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৪৫৪টি ভোট। অর্থাৎ, নিজের কেন্দ্রে মাত্র ৯টি ভোটের ব্যবধানে কোনোমতে লিড ধরে রাখতে পারলেও রাজ্যের সামগ্রিক চিত্রটি দলের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পোস্টাল ব্যালটের এই বিপুল ব্যবধান প্রমাণ করছে যে, শিক্ষিত ও চাকরিজীবী ভোটারদের একটি বড় অংশ বর্তমান সরকারের কার্যপদ্ধতিতে বিমুখ।
ভোটের ফলাফলের প্রভাব ও রাজনৈতিক ইঙ্গিত
নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটকে সাধারণত সচেতন ও প্রাতিষ্ঠানিক ভোটারদের মতামতের প্রতিফলন হিসেবে ধরা হয়। ৮০ শতাংশ ভোট হাতছাড়া হওয়া শাসকদলের জন্য একটি গভীর অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি নীতি নিয়ে যে জনমানসে ক্ষোভ ছিল, তা ব্যালট বক্সের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই বিশাল ধাক্কা ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।