নিট পরীক্ষার আগের রাতে রহস্যময় মেসেজ ফাঁস করে দিল ভারতের সবথেকে বড় প্রশ্ন জালিয়াতি!

মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬ ঘিরে দেশজুড়ে যে তোলপাড় শুরু হয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে রাজস্থানের সিকর শহরের একটি সাধারণ হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ। পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে এক এমবিবিএস ছাত্রের পাঠানো তথাকথিত ‘গেস পেপার’ থেকেই উন্মোচিত হয় এক বিশাল অপরাধচক্রের নীল নকশা। এই ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত পুরো পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ), যার তদন্তভার এখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-এর হাতে।
যেভাবে প্রকাশ্যে এল জালিয়াতির ছক
গত ২ মে রাত ১১টার দিকে সিকরের এক এমবিবিএস পড়ুয়া তার বাবার কাছে একটি পিডিএফ ফাইল পাঠান। পেশায় হোস্টেল মালিক ওই ব্যক্তি পরদিন সকালে যখন ফাইলটি একজন রসায়ন শিক্ষককে দেখান, তখন আসল সত্য সামনে আসে। দেখা যায়, নিটের মূল প্রশ্নপত্রের ১০৮টি প্রশ্নের মধ্যে ৪৫টি এবং জীববিদ্যার ৯০টি প্রশ্ন ওই ফাইলের সাথে হুবহু মিলে গেছে। সব মিলিয়ে ১৩৫টি প্রশ্নের এই অভূতপূর্ব মিল নিশ্চিত করে যে, এটি কোনো সাধারণ অনুমান নয় বরং পরিকল্পিত প্রশ্নফাঁস। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় পুলিশ অভিযোগ নিতে গড়িমসি করলেও, পরবর্তীতে এনটিএ ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর হস্তক্ষেপে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তের জাল এবং দেশজুড়ে প্রভাব
রাজস্থান স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের (এসওজি) তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, জয়পুরের দুই ভাইয়ের হাত ধরে এই প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছিল হরিয়ানা, বিহার, জম্মু-কাশ্মীর ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে। মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের মূল কপি উদ্ধারের পর স্পষ্ট হয় যে, অপরাধচক্রটি কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে এই কারবার চালিয়েছে। প্রশ্নফাঁসের এই ঘটনায় দেশের লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যদিও এনটিএ জানিয়েছে যে পুনরায় পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কোনো বাড়তি ফি দিতে হবে না, তবে এই কেলেঙ্কারি জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। বর্তমানে সিবিআই এই চক্রের মূল হোতাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।