নদীয়ার ১৩ গ্রাম বদলে যাচ্ছে! ৩৯ কোটির মেগা প্রজেক্টে ফিরবে সুদিন – বর্তমান বাংলা

নদীয়ার ১৩ গ্রাম বদলে যাচ্ছে! ৩৯ কোটির মেগা প্রজেক্টে ফিরবে সুদিন – বর্তমান বাংলা

বর্তমান ডেস্কঃ

নদীয়া: সীমান্ত এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ‘ভাইব্রেট ভিলেজ’ (Vibrant Village Programme) প্রকল্পের অধীনে নদীয়া জেলার ৭টি ব্লকের মোট ১৩টি সীমান্ত গ্রামকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী ৪টি অর্থবর্ষের (২০২৫-২৬ থেকে ২০২৮-২৯) মধ্যে এই গ্রামগুলির পরিকাঠামোগত রূপান্তরের লক্ষ্যে মোট ৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে।

যেভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রকল্প:

  • প্রথমে ব্লক স্তর থেকে গ্রামভিত্তিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করে জেলাশাসকের দফতরে পাঠানো হচ্ছে।
  • জেলা স্তর থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ‘VVP-II’ পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো হচ্ছে প্রস্তাবগুলি।
  • স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্লক স্তরের আধিকারিকরা সরজমিনে গিয়ে ‘VVP App’-এর মাধ্যমে প্রস্তাবিত জায়গার ছবি তুলছেন, যা সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পর্যবেক্ষণ করছে।
  • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমোদনের পরই সরাসরি বরাদ্দ মিলবে। চলতি বছরের জুন মাস থেকে নদীয়ায় কাজ শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ২৫০টিরও বেশি প্রজেক্ট জমা পড়েছে।

গুরুত্ব পাবে যে ক্ষেত্রগুলি: প্রকল্পের অর্থ মূলত গ্রামীণ পর্যটন, টেলিকম পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল সরবরাহ এবং রাস্তাঘাট নির্মাণের মতো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে।

তালিকাভুক্ত নদীয়ার ১৩টি সীমান্ত গ্রাম:

  • চাপড়া ব্লক: মধুপুর, মলুয়াপাড়া ও হাটখোলা।
  • কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক: টুঙ্গি, দিগম্বরপুর ও বিজয়পুর।
  • হাঁসখালি ব্লক: উমরপুর।
  • করিমপুর-১ ব্লক: হাজরাখালি ও বিলাশিষা।
  • করিমপুর-২ ব্লক: দিঘলকান্দি (সহ আরও একটি গ্রাম)।
  • রানাঘাট-২ ব্লক: বড়নবেড়িয়া (ঝোড়পাড়া)।
  • তেহট্ট-১ ব্লক: জিতপুর ও সাহাপুর।

অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় জোয়ার: নদীয়ার এই সীমান্ত এলাকাগুলিতে বেশ কিছু ঐতিহাসিক মন্দির, পুরাকীর্তি ও মনোরম গ্রামীণ পরিবেশ রয়েছে। ভাইব্রেট ভিলেজ প্রকল্পের অধীনে পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে উঠলে এলাকায় বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

আধুনিক সড়ক, টেলিকম ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে উঠলে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে। একই সাথে, উন্নত ও জনবসতিপূর্ণ সীমান্ত এলাকা অনুপ্রবেশ রোধের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তপোক্ত করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *