নদীয়ায় ভোটের দামামা! ১৪১১ বুথে সুপার নিরাপত্তা, নামছে কেন্দ্রীয় বাহিনী!
নদীয়ায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়
সীমান্তবর্তী জেলা নদীয়ায় আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রশাসন এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জেলাজুড়ে মোট ৫ হাজার ১৩৬টি বুথের মধ্যে ১৪১১টি বুথকে ‘সুপার সেনসেটিভ’ বা অতি-স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা মোট বুথের প্রায় ৩৬ শতাংশ। কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট পুলিশ ডিস্ট্রিক্ট মিলিয়ে এই বিপুল সংখ্যক বুথে ভোট লুণ্ঠন ও রাজনৈতিক হিংসা রুখতে বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক সংঘাতের ইতিহাস, সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান এবং অতীতে জঙ্গি কার্যকলাপের মতো বিষয়গুলোকে মাথায় রেখেই নির্বাচন কমিশন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিশেষ করে নদী সংলগ্ন বুথ, পূর্ববর্তী নির্বাচনে অশান্তি, বিপুল অস্ত্র বা মাদক উদ্ধার এবং সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীলতার মতো প্যারামিটারগুলো বিচার করে এই অতি-স্পর্শকাতর বুথগুলি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের দিন বুথ চত্বরে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বুথেই ১২০০-র বেশি ভোটার রাখা যাবে না। এই নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে জেলায় ৪৫০টি অক্সিলিয়ারি বুথ বাড়ানো হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রানাঘাট পুলিশ ডিস্ট্রিক্টে ৮৫৬টি এবং কৃষ্ণনগর পুলিশ ডিস্ট্রিক্টে ৫৫৫টি অতি-স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে। রানাঘাট উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা যথাক্রমে ১৫২ ও ১৩৭টি, যা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কৃষ্ণনগর মহকুমার করিমপুর ও নাকাশিপাড়াতেও বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই কড়া নিরাপত্তার মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা ফেরানো এবং ভোট পরবর্তী হিংসা প্রতিরোধ করা। ১০০ মিটারের ‘লক্ষ্মণ রেখা’ কঠোরভাবে বজায় রাখতে কমিশন যে আপসহীন মনোভাব দেখাচ্ছে, তা এই বিশাল সংখ্যক স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিতকরণের মাধ্যমেই স্পষ্ট।