দুর্নীতি দমনে বড় পদক্ষেপ নিয়ে আমলাদের রক্ষাকবচ সরাল শুভেন্দু সরকার!

দুর্নীতি দমনে বড় পদক্ষেপ নিয়ে আমলাদের রক্ষাকবচ সরাল শুভেন্দু সরকার!

রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ও দুর্নীতির তদন্তে গতি আনতে শপথ গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কঠোর অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক নিয়োগ, পুরসভা এবং সমবায় সংক্রান্ত একাধিক দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে পূর্ণ স্বাধীনতা বা ‘খোলাছুট’ দিল নতুন সরকার। বিদায়ী সরকারের আমলে যে আমলাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে ছিল, এখন থেকে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।

দুর্নীতি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পূর্ববর্তী সরকার দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ আধিকারিকদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। ভারতীয় আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা বা তদন্ত শুরু করতে রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমতির প্রয়োজন হয়। গত চার বছর ধরে সেই অনুমতির ফাইলগুলি আটকে থাকায় তদন্তকারী সংস্থাগুলি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছিল না। বর্তমান সরকারের এই সবুজ সংকেতের ফলে আমলাদের দীর্ঘদিনের সেই ‘রক্ষাকবচ’ কার্যত শেষ হলো।

তদন্তের আওতায় তিনটি বড় কেলেঙ্কারি

মূলত তিনটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়া এখন গতি পাবে। প্রথমত, সরকারি স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, যেখানে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে আর্থিক বিনিময়ে অযোগ্যদের চাকরির অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত জালিয়াতি। এবং তৃতীয়ত, সমবায় দফতর ও সমিতিগুলির মধ্যে চলা বড় অঙ্কের আর্থিক তছরুপের মামলা। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট তৈরি হয়ে গেলে আইন নিজের পথেই চলবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখাই তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

প্রশাসনিক সংস্কার ও সম্ভাব্য প্রভাব

ইতিমধ্যেই বিদায়ী সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক প্রভাবশালী আমলাকে সরিয়ে নতুন প্রশাসনিক টিম গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আধিকারিকদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসনের নীচতলা থেকে উপরতলা পর্যন্ত স্বচ্ছতা ফিরবে। তবে এই ব্যাপক ধরপাকড় ও তদন্তের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই আপসহীন লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন পর্যায়ে পৌঁছায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *