দিল্লিতে মমতা-অভিষেক, তৃণমূলের ভাঙন ঠেকাতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরণাপন্ন ঘাসফুল শিবির
নিজস্ব প্রতিবেদন, দিল্লি: বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় হারের পর থেকেই রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতার পারদ তুঙ্গে। দলের অন্দরের বিদ্রোহ এবং একের পর এক নেতার বিরুদ্ধে জনরোষের জেরে তৈরি হয়েছে ভাঙনের আশঙ্কা। এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যের সাংগঠনিক সংকটের মোকাবিলা করতে এবং জাতীয় স্তরে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে সোমবার তড়িঘড়ি দিল্লি রওনা হয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজধানী পৌঁছেছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
কেন এই দিল্লি সফর?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের জনভিত্তি হ্রাসের পাশাপাশি দল ভাঙার আতঙ্ক এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মাথাব্যথার কারণ। কলকাতা পুরসভা থেকে শুরু করে পরিষদীয় দলের অন্দরেও অস্থিরতা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। এই অবস্থায় জাতীয় রাজনীতিতে টিকে থাকতে এবং কেন্দ্রীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই বজায় রাখতে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটকেই একমাত্র লাইফলাইন হিসেবে দেখছে তৃণমূল শিবির। সূত্রের খবর, লোকসভা নির্বাচনের মতোই ‘একের বিরুদ্ধে এক’ নীতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে ফের কৌশলগত সমঝোতায় হাঁটতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। আগামিকালের বৈঠক থেকেই বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারিত হতে পারে।
জোটের অন্দরে বাম-কংগ্রেস টানাপোড়েন:
সব বিরোধী দলকে এক ছাতার তলায় আনার এই প্রচেষ্টার মাঝেই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাম-কংগ্রেস সম্পর্ক। কেরল বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে ‘গোপন সমঝোতা’র অভিযোগে সরব হয়েছেন বাম নেতৃত্ব। সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি সরাসরি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে চিঠি দিয়ে কৈফিয়ত চেয়েছেন।
বিরোধী ঐক্যের প্রাক্কালে বামেদের এই চিঠি এবং আক্রমণাত্মক অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সব বিরোধী দলকে একজোট করার মরিয়া চেষ্টা করছেন, তখন এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন বিরোধী শিবিরের সমন্বয়ে কতটা ধাক্কা দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
দিল্লির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তৃণমূলের পরবর্তী রণকৌশল কী হয় এবং বিরোধী জোট এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে কি না, তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।