দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম থেকে সরছে ‘ধাম’ শব্দবন্ধ!

পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘায় নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের চলা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্ক এবার চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে। মন্দিরের নামের সাথে যুক্ত ‘জগন্নাথ ধাম’ শব্দবন্ধটি সরিয়ে দেওয়ার জন্য জোরালো দাবি তুলেছে ওড়িশার বিজেপি নেতৃত্ব এবং পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত সমাজ। রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে এই নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মর্যাদার সংঘাত

বিতর্কের মূলে রয়েছে ‘ধাম’ শব্দটির ব্যবহার। পুরীর প্রাক্তন রাজপরিবারের প্রধান গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি এই নামকরণের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের মতে, হিন্দুধর্মের পবিত্র ‘চারধামের’ অন্যতম হলো পুরী। জগন্নাথ মন্দির বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হতে পারে, কিন্তু ‘জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে শুধুমাত্র পুরীরই অনন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মর্যাদা রয়েছে। অন্য কোনো মন্দিরকে এই নামে অভিহিত করা পুরীর প্রাচীন ঐতিহ্যকে ম্লান করার শামিল এবং এতে ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে বলে ওড়িশা সরকার ও সেবায়েতরা দাবি করেছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব

২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল দিঘার এই মন্দিরের উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যার নামকরণ করা হয়েছিল ‘জগন্নাথ ধাম, দিঘা’। এরপর থেকেই ওড়িশার বিজেপি নেতৃত্ব এই নামকরণের বিরোধিতা করে আসছিল। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ওড়িশা বিজেপির সহ-সভাপতি গোলক মহাপাত্র জানিয়েছেন, বাংলায় প্রশাসনিক স্তরে রদবদল ঘটলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং নামের শেষ থেকে ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মোহনচরণ মাঝিও এই বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রতিবেশী দুই রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের চলা একটি ধর্মীয় ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *