তৃণমূলের ভাঙনে নয়া মোড়, দাক্ষিণাত্যের চাণক্যকে নিয়ে শোরগোল!
তৃণমূল কংগ্রেসে চলমান নজিরবিহীন বিদ্রোহ এবং দল ভাঙার নেপথ্যে থাকা মূল কারিগর হিসেবে নিজের নাম সামনে এনেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সিএম রমেশ। এতদিন এই প্রক্রিয়ায় নিশিকান্ত দুবে বা ভূপেন্দ্র যাদবের নাম শোনা গেলেও, সিএম রমেশ দাবি করেছেন যে বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে মূল সমন্বয় রক্ষায় তিনিই কাজ করেছেন। সংসদের ক্যান্টিনে ব্যক্তিগত সখ্যতা এবং নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি অধিকাংশ বিদ্রোহী সাংসদকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে রাজি করিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া, এই অভিযানের পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন নয়, বরং নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়নের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
সিএম রমেশের এই দাবিকে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ‘আত্মম্ভরিতা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রমেশের অতীত রেকর্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, কারণ ২০১৯ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপির চারজন সাংসদকে দলবদল করানোর ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সবশেষ ৮ জুন দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকের সময় কলকাতায় শতাব্দী রায়ের বাড়িতে আয়োজিত গোপন বৈঠকে এই ভাঙন চূড়ান্ত রূপ পায়। তৃণমূলের ১৯ জন লোকসভা এবং ৩ জন রাজ্যসভা সাংসদের এই বিদ্রোহের ফলে দলটির জাতীয় রাজনীতিতে দর কষাকষির ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপির প্রভাব বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।