তিস্তায় ধসের আতঙ্ক, লাল সতর্কতা জারি! – বর্তমান বাংলা

তিস্তায় ধসের আতঙ্ক, লাল সতর্কতা জারি! – বর্তমান বাংলা

বর্তমান ডেস্কঃ

বিশেষ প্রতিনিধি: নেপালের মর্মান্তিক বিপর্যয়ের ঘা শুকাতে না শুকাতেই এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে প্রতিবেশি রাজ্য সিকিম ও উত্তরবঙ্গ। শনিবার গভীর রাতে উত্তর সিকিমের মাঙ্গান জেলার নাকা ফরেস্ট এলাকার থেন টিলার বিপরীতে চিয়াকুং নদীর উপরিভাগে বিশাল ধস নামে। পাহাড়ের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ায় চিয়াকুং ও তিস্তা নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ আংশিক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে সিকিমের চুংথাং এলাকায় তিস্তার জলস্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে, যা ঘিরে সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

🔊 তিস্তাপাড়ে টানা মাইকিং ও উচ্ছেদ অভিযান

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রবিবার দুপুর থেকেই কালিম্পংয়ের তিস্তাবাজার এবং দার্জিলিংয়ের সেবক এলাকায় মাইকে টানা প্রচার করে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার ও রাজগঞ্জ ব্লকের টোটগাঁও, গজলডোবা, চাঁপাডাঙা ও চেংমারির মতো তিস্তা লাগোয়া একাধিক গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই নদী থেকে অন্তত দুই কিলোমিটার দূরে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে। জলপাইগুড়ি শহরের বালাপাড়া ও সুকান্তনগর কলোনিতেও ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং দুর্গতদের আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় স্কুলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

🗣️ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বার্তা

দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য রাজু বিস্ত সিকিমের মুখ্যসচিব রবীন্দ্র তেলাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মুখ্যসচিব জানান, ধসের কারণে জলপ্রবাহ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও নদী দুটি পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়নি, জল বইছে। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি, তবে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মালবাজারের মহকুমাশাসক উৎকাংশ খান্ডাল জানিয়েছেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।

⚠️ ২০২৩ সালের বিপর্যয় ও নতুন আশঙ্কা

শনিবারের ধসের ফলে চিয়াকুং নদীতে একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এলাকাটি ডিকচু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছে হওয়ায় জলাধার থেকে জল ছাড়ার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে উঁকি দিচ্ছে ২০২৩ সালের অক্টোবরের সাউথ লোনাক হ্রদ ভাঙা বিধ্বংসী বন্যার স্মৃতি। সেবারও হিমবাহের বাঁধ ভেঙে তিস্তায় হঠাৎ নেমে আসা হড়পা বানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। নতুন করে আবার তিস্তার জল আটকে যাওয়ায় বড় ধরনের বন্যার গুজব ও আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গ জুড়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *