তিন বছরের পণ পূরণ করে ফিরছে কেশসজ্জা, মমতার বিদায়ে শ্যাম্পু নিয়ে উদযাপনে কৌস্তভ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ আছড়ে পড়তেই নজর কাড়লেন ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচি। দীর্ঘ তিন বছর পর নিজের নেওয়া কঠিন প্রতিজ্ঞা ভাঙতে চলেছেন তিনি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত মাথায় চুল না রাখার যে জেদ তিনি ধরেছিলেন, বর্তমান ফলাফলের ট্রেন্ড অনুযায়ী সেই স্বপ্নপূরণের পথে কৌস্তভ। একদিকে যেমন রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়ার পথে, তেমনই ব্যক্তিগত লড়াইয়েও জয়ের হাসি হাসছেন এই তরুণ তুর্কি।

প্রতিজ্ঞা পূরণ ও ডবল ভিক্ট্রি

২০২৩ সালের ৪ মার্চ চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের সমর্থনে দাঁড়িয়ে মাথা মুড়িয়েছিলেন কৌস্তভ বাগচি। তখন তিনি ছিলেন কংগ্রেসের নেতা। সেই সময় তিনি শপথ নিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী না করা পর্যন্ত তিনি মাথায় চুল রাখবেন না। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ব্যারাকপুর থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন তিনি। ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের রাজ চক্রবর্তীকে বিপুল ব্যবধানে পিছনে ফেলে জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কৌস্তভ। গণনাকেন্দ্রে এদিন তাকে দেখা যায় হালকা চুলের রেখায়, যা বুঝিয়ে দিচ্ছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে।

ঘরে-বাইরে উৎসবের আমেজ

কৌস্তভের এই জয়ে এবং দীর্ঘদিনের শপথ পূরণ হওয়ার খুশিতে উচ্ছ্বসিত তার স্ত্রী প্রীতিও। স্বামীর কেশসজ্জা ফিরে আসার উদযাপন হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই ব্র্যান্ডেড শ্যাম্পু উপহার হিসেবে কিনে রেখেছেন। ব্যারাকপুরজুড়ে এখন গেরুয়া আবিরের দাপট। অন্যদিকে, হারের মুখ দেখে গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীকে অনভিপ্রেত পরিস্থিতির শিকার হতে হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কৌস্তভ বাগচির এই জয় ব্যক্তিগত ইগোর লড়াইয়ের চেয়েও বেশি একটি প্রতীকী পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসানের পাশাপাশি কৌস্তভের মাথার চুল ফিরে আসা— সমর্থকদের কাছে এখন ‘ডবল ভিক্ট্রি’র সমান। এই ফলাফলের প্রভাবে উত্তর ২৪ পরগনা সহ গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *