ডেপুটি কমিশনার শান্তনুর বাড়িতে ২০ ঘণ্টার ম্যারাথন ইডি তল্লাশি

বালিগঞ্জে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সরকারি বাসভবনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দীর্ঘ অভিযানের ঘটনায় রাজ্য পুলিশ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই ম্যারাথন তল্লাশি চলে প্রায় ২০ ঘণ্টা। দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার রাত ২টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলের আধিকারিকরা ওই বাড়ি থেকে বের হন। তল্লাশি শেষে তদন্তকারীরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ডিজিটাল প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করে সঙ্গে নিয়ে গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

নেপথ্যের কারণ ও গোয়েন্দা তৎপরতা

যদিও ইডির পক্ষ থেকে এই অভিযানের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে সূত্রের খবর, কোনো একটি বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তের সূত্র ধরেই উচ্চপদস্থ এই পুলিশ কর্তার নাম সামনে এসেছে। তদন্ত চলাকালীন ওই বাসভবনের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছিল এবং তল্লাশি চলাকালীন বাড়ির সদস্যদের বাইরে বের হতে বা বাইরের কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। মূলত আয়ের উৎসের সাথে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির খোঁজ বা কোনো প্রভাবশালীর সাথে আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র খুঁজতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য ও সম্ভাব্য প্রভাব

কলকাতা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল পদে থাকা কর্মকর্তার বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থার এমন নজিরবিহীন তল্লাশিতে প্রশাসনের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে। এই অভিযানের ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে কাজের পরিবেশে এক ধরণের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যদি বাজেয়াপ্ত নথিপত্রে কোনো বেআইনি লেনদেনের প্রমাণ মেলে, তবে আগামী দিনে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। একই সাথে এই মামলার রেশ ধরে পুলিশের আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

এক ঝলকে

  • কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বালিগঞ্জের বাড়িতে ইডির দীর্ঘ ২০ ঘণ্টার তল্লাশি অভিযান।
  • রবিবার রাত ২টা ৩০ মিনিটে তদন্তকারীরা তল্লাশি শেষ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বের হন।
  • অভিযানের সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট না করলেও একে একটি বড় আর্থিক মামলার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
  • এই ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *