ডিএমকে-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতেই কংগ্রেসকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা মোদীর, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তোলপাড়

নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় রদবদল ঘটতেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী ডিএমকে-র হাত ছেড়ে বিজয়-এর দল টিভিকে (TVK)-র দিকে কংগ্রেস পা বাড়ানোয় সরব হয়েছেন তিনি। সোমবার এক জনসভা থেকে কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুযোগ বুঝে পুরোনো বন্ধুকে ত্যাগ করা কংগ্রেসের মজ্জাগত স্বভাব।

ডিএমকে-র অবদানের কথা স্মরণ

প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসকে বিঁধেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ২০১৪ সালের আগের টানা দশ বছর কেন্দ্রে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার মূলত ডিএমকে-র সমর্থনের ওপর ভর করেই টিকে ছিল। মোদীর কথায়, “যে ডিএমকে নিরন্তর কংগ্রেসের দুর্দিনে পাশে থেকেছে এবং তাদের সরকার বাঁচাতে সাহায্য করেছে, রাজনীতির সামান্য হাওয়া বদলাতেই কংগ্রেস তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

তামিলনাড়ুর নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর কংগ্রেসের এই কৌশলগত অবস্থান বদলকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস কোনো আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করে না, কেবল ক্ষমতার লোভে বন্ধু বদল করে। ডিএমকে-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের দলের সঙ্গে কংগ্রেসের হাত মেলানোকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ হিসেবেই দেখছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য তামিলনাড়ুর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা ডিএমকে ও কংগ্রেসের মধ্যকার দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। এই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিজেপি এখন দক্ষিণের এই রাজ্যে নিজেদের মাটি আরও শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *