টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসের পতনের নেপথ্যে কি বামেদের ভোটই তুরুপের তাস

রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী তথা চারবারের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাসের পরাজয় নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলানো এই দুঁদে নেতাকে টালিগঞ্জ থেকে পুনরায় প্রার্থী করে তৃণমূল কংগ্রেস এক প্রকার নিশ্চিন্তই ছিল। কিন্তু ৪ মে ইভিএম গণনার ফলাফল সামনে আসতেই দেখা যায়, বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর কাছে ৬০১৩ ভোটে পরাজিত হয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। তবে এই হারের ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিজেপির সাফল্যের চেয়ে বামেদের ভোট প্রাপ্তিকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন।

ভোটের সমীকরণে বামেদের ভূমিকা

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টালিগঞ্জ কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী মোট ৮৮ হাজার ৪০৭টি ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে ৮২ হাজার ৩৯৪টি ভোট। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই লড়াইয়ে সিপিআইএম প্রার্থী পার্থ প্রতিম বিশ্বাস ৩০ হাজার ৩৩৫টি ভোট সংগ্রহ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বামেদের এই বিশাল পরিমাণ ভোট প্রাপ্তিই সরাসরি তৃণমূলের জয়ের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বামেরা যদি এই পরিমাণ ভোট না টানত, তবে সেই ভোটের বড় অংশ শাসকদলের পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, যা অরূপ বিশ্বাসের হারের ব্যবধান অনায়াসেই ঘুচিয়ে দিতে পারত।

রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট

রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই ঘটনাকে ‘ভোট কাটার রাজনীতি’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। তথ্য বলছে, বাম প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট শাসকদলের ভোটব্যাংকে থাবা বসানোর ফলে আদতে লাভবান হয়েছে গেরুয়া শিবির। শুধুমাত্র টালিগঞ্জ নয়, রাজ্যের আরও বেশ কয়েকটি আসনে বামেদের ভোট শতাংশ বৃদ্ধির ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ত্রিভুজ লড়াইয়ের ক্ষেত্রে বামেদের শক্তিবৃদ্ধি অনেক ক্ষেত্রেই শাসকদলের জন্য অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল বদলে দিচ্ছে। এই হারের ফলে আগামী দিনে ওই এলাকায় তৃণমূলের সাংগঠনিক আধিপত্য বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *