টলিপাড়ায় পরিবর্তনের হাওয়া, ইমপা সভাপতির পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভে প্রযোজকরা!
রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায়। দীর্ঘ দেড় দশকের সমীকরণ বদলে দিয়ে ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ‘ইমপা’ (EIMPA) সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগ দাবি করে সরব হলেন প্রযোজকদের একাংশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইমপা অফিসে কার্যত নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যেখানে স্বজনপোষণ থেকে শুরু করে আর্থিক দুর্নীতির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের তির ও শুদ্ধিকরণ অভিযান
বিক্ষুব্ধ প্রযোজক ও পরিবেশকদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে ফেডারেশন (FCTWEI) ও শাসক শিবিরের ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে ইমপা-র ওপর একাধিপত্য কায়েম করেছিলেন পিয়া সেনগুপ্ত। তাঁদের দাবি, ফেডারেশন সভাপতির অঙ্গুলিহেলনে সংগঠনের কাজ চলত এবং ছোট প্রযোজকদের কোণঠাসা করে রাখা হতো। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা ইমপা অফিস গঙ্গাজল দিয়ে ‘শুদ্ধ’ করেন এবং সেখানে রাজনৈতিক স্লোগান ওঠে। প্রযোজকদের স্পষ্ট দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে ইমপা-কে সিনেমার স্বার্থে পরিচালনা করতে হবে।
স্বজনপোষণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
সংগঠনের অন্দরে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন শতদীপ সাহা, প্রবীর ভৌমিক ও পীযূষ সাহার মতো ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের অভিযোগ, এনওসি (NOC) দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা দাবি করা হতো এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরের প্রযোজকদের গুরুত্ব দেওয়া হতো না। এমনকি, মাল্টিপ্লেক্সে ছবি চালানোর বিনিময়ে নিজের পুত্রকে অভিনয়ের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য পিয়া চাপ সৃষ্টি করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও পিয়া সেনগুপ্ত এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ইমপা একটি অরাজনৈতিক সংস্থা এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার কারণেই তাঁর ওপর পদত্যাগের চাপ তৈরি করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও অচলাবস্থা
আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন ক্ষুব্ধ সদস্যরা। এই সংঘাতের ফলে টালিগঞ্জে গভীর অস্থিরতা তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন স্ক্রিনিং কমিটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে ইমপা ও ফেডারেশনের দীর্ঘদিনের ‘ঘনিষ্ঠ’ সম্পর্কে ফাটল ধরার উপক্রম হয়েছে। এই অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন না হলে বাংলা চলচ্চিত্র মুক্তি ও ডিস্ট্রিবিউশন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।