জ্বালানি বাঁচাতে বিজেপির ভিআইপি কালচারে কোপ! মন্ত্রীরা নামলেন মেট্রোয়

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবার নিজেদের ‘ভিআইপি’ সুযোগ-সুবিধা ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটল বিজেপি নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা তাঁদের কনভয় এবং বিদেশ সফর বাতিলের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল মিশ্র ও রামদাস আঠওয়ালেকে নিজেদের বিলাসবহুল গাড়ি ছেড়ে দিল্লির মেট্রোয় চড়ে দপ্তরে যেতে দেখা গেছে, যা রাজনৈতিক মহলে ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ পরিবর্তনের এক বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি ব্যয় ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর পদক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রীর বার্তার পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ১১টি থেকে কমিয়ে ৫টিতে নামিয়ে এনেছেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও তাঁদের কনভয়ের বহর প্রায় অর্ধেক করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহারাষ্ট্রেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে; সে রাজ্যের মন্ত্রী আশিস শেলার তাঁর নির্ধারিত ফ্রান্স সফর এবং পর্যটন মন্ত্রী শম্ভুরাজ দেশাই তাঁর ব্যক্তিগত ইউরোপ সফর বাতিল করেছেন। এমনকি গুজরাটের রাজ্যপাল ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের অভ্যন্তরে যাতায়াতের জন্য তিনি হেলিকপ্টারের পরিবর্তে ট্রেন বা বাস ব্যবহার করবেন।

সংকটের প্রভাব ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৮৫ শতাংশই আমদানি করে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, যার ফলে দেশে তীব্র মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো ইতিমধ্যে জ্বালানি রেশনিং শুরু করায় ভারতও আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছে। সাধারণ মানুষকে ত্যাগের পরামর্শ দিয়ে নিজেরা বিলাসিতা বজায় রাখলে জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব এই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা ভাবমূর্তি রক্ষার পথে হেঁটেছে। এই উদ্যোগ সরকারি কোষাগারের চাপ কমানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমনেও সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *