জল ও ওষুধে মিশে থাকা রাসায়নিক শিশুদের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে , বিজ্ঞানীদের চরম সতর্কতা!
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)-র একদল গবেষক সম্প্রতি শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে এক ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, পানীয় জল, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত কিছু সাধারণ ওষুধে মিশে থাকা ‘এনডিএমএ’ (NDMA) নামক রাসায়নিক শিশুদের ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শরীর এই বিষাক্ত উপাদানের প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় এই ঝুঁকি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
এনডিএমএ-র ক্ষতিকারক প্রভাব ও শৈশবকালীন ঝুঁকি
গবেষণায় দেখা গেছে, এন-নাইট্রোসোডাইমিথাইল্যামাইন বা এনডিএমএ সরাসরি ডিএনএ (DNA) ক্ষতিগ্রস্ত করে। শৈশবে শিশুদের শরীরে কোষ বিভাজন অত্যন্ত দ্রুত হয়, যার ফলে সামান্য ডিএনএ ক্ষতিও স্থায়ী মিউটেশনে রূপান্তরিত হয়ে ভবিষ্যতে ক্যানসারের রূপ নিতে পারে। এছাড়া, শিশুদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পুরোপুরি পরিণত না হওয়ায় তাদের শরীর এই বিষাক্ত রাসায়নিকগুলো সহজে বের করে দিতে পারে না। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যে মাত্রার রাসায়নিক নিরাপদ মনে করা হয়, শিশুদের জন্য তা প্রাণঘাতী হতে পারে।
প্রতিরোধের উপায় ও বিজ্ঞানীদের পরামর্শ
এমআইটি-র অধ্যাপক বেভিন এঙ্গেলওয়ার্ডের মতে, ক্যানসার নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধ করা অনেক বেশি কার্যকর। শিশুদের সুরক্ষায় বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো পানীয় জলের মান নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং আধুনিক শোধন পদ্ধতি ব্যবহার করা। এছাড়া শিশুদের ওষুধের ক্ষেত্রে আরও কড়া মাননিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পজাত বর্জ্য যেন সরাসরি জলের উৎসে না মেশে, সেদিকে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। অব্যবহৃত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যেখানে-সেখানে না ফেলে নিরাপদভাবে ধ্বংস করার ওপরও তাঁরা বিশেষ জোর দিয়েছেন।