জঙ্গিপুরে স্ট্রং রুমের সিসিটিভি বিভ্রাট ঘিরে চরম উত্তেজনা! ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার
ভোট গণনার আগের দিন জঙ্গিপুরের স্ট্রং রুমে সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের প্রবল বিক্ষোভ ও কারচুপির অভিযোগে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রবিবার বেলা ১টা ২৬ মিনিট থেকে ১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত—অর্থাৎ দীর্ঘ ৫ মিনিট স্ট্রং রুমের সিসিটিভি ফুটেজ মনিটরে দেখা না যাওয়ায় এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। গণনার ঠিক আগে নিরাপত্তার এই গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন উপস্থিত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা।
পুলিশি তৎপরতা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
উত্তেজনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সুপার সুরিন্দর সিং। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং রাজনৈতিক এজেন্টদের মনে তৈরি হওয়া সন্দেহ দূর করতে তিনি তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বিক্ষোভকারী এজেন্টদের আশ্বস্ত করতে তাঁদের সরাসরি স্ট্রং রুমের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এজেন্টরা ইভিএম রাখা ঘরের সিল এবং পূর্ববর্তী সইগুলো খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন। এই সময় সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাসের নির্বাচনী এজেন্ট হাবিবুর রেজাও সেখানে উপস্থিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন।
নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা
গণনার আগের মুহূর্তে ৫ মিনিটের এই ‘ব্ল্যাকআউট’ বা ফুটেজ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রশাসনিক মহলে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। যদিও সিলের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে প্রাথমিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়েছে, তবুও এই যান্ত্রিক ত্রুটি বা গাফিলতি নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের ঘটনা গণনার দিন সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশাসনের এই দ্রুত হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও, গণনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কড়া নজরদারি বজায় রাখা এখন নির্বাচন কমিশনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।