চারশো নারীর সম্মিলিত প্রতিশোধ!
নাগপুর আদালতকক্ষে কুখ্যাত অপরাধীর নৃশংস পরিণতি: ৪০০ নারীর হাতে গণবিচার
২০০৪ সালের ১৩ আগস্ট মহারাষ্ট্রের নাগপুরের কস্তুরবা নগরের কুখ্যাত অপরাধী ভরত কালীচরণ ওরফে আক্কু যাদবের নৃশংস পরিণতির সাক্ষী হয়েছিল নাগপুর জেলা আদালত। সেখানে প্রায় ৪০০ নারী একত্রিত হয়ে লঙ্কাগুঁড়ো ছিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। দীর্ঘ এক দশক ধরে চলা অবর্ণনীয় যৌন নির্যাতন, শারীরিক নিগ্রহ এবং খুনের প্রতিশোধ নিতে সেদিন ক্ষুব্ধ নারীরা নিজেরাই আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। আক্কু যাদব ১৯৯১ সাল থেকে নাগপুরের বস্তি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, যার বিরুদ্ধে শতাধিক নারীকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল।
**ত্রাসের রাজত্ব ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা
আক্কু যাদবের বিরুদ্ধে অসংখ্য নারী ধর্ষণের অভিযোগে অভিযোগ ছিল। সদ্য মা হওয়া নারী থেকে শুরু করে প্রবীণরাও তার হাত থেকে রেহাই পাননি। অভিযোগ রয়েছে, আক্কু স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নিয়মিত ঘুষ দিয়ে হাত করে রাখত, যার ফলে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতো না। দীর্ঘ সময় ধরে বিচার না পাওয়া এবং পুলিশের উদাসীনতা সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে, ১৩ আগস্ট ২০০৪ তারিখে যখন আক্কু যাদবকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আদালতে পেশ করা হয়, তখন পরিকল্পিতভাবেই সেখানে হাজির হন কয়েকশ নারী। শুনানি চলাকালীন এই নারীরা হঠাৎই আক্কুর ওপর লঙ্কাগুঁড়ো ছিটিয়ে দেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। ভিড়ের মধ্যে তাকে কুপিয়ে খুনের পাশাপাশি তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। আদালত কক্ষের মেঝে রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ওই অপরাধীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাটি ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় অপরাধীর প্রতি জনরোষের এক চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।