চন্দ্রনাথ হত্যায় কাঠগড়ায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব, পাল্টা সিবিআই তদন্তের দাবি জোরালো

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বুধবার রাতের এই ঘটনাকে নিছক অপরাধ হিসেবে দেখতে নারাজ বিজেপি শিবির। দলের রাজ্য নেতৃত্ব এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করে সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের দিকে আঙুল তুলেছেন। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিজেপির নিশানায় তৃণমূলের শীর্ষ স্তর

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনাকে প্রতিহিংসার রাজনীতি বলে উল্লেখ করেছেন। তবে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়িয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিংহ। তাঁর দাবি, এই খুনের নির্দেশ তৃণমূলের উচ্চস্তর থেকে এসেছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, পেশাদার ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হয়েছে, যার পেছনে বড় অংকের অর্থের লেনদেন হওয়া স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষের ধারণা উদ্ধৃত করে তিনি ‘পিসি-ভাইপো’ তত্ত্বকে খুনের নেপথ্য কারণ হিসেবে তুলে ধরেন।

সংযত থাকার বার্তা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিজেপি নেতারা। শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূলের ভাষায় পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন বলে হুঁশিয়ারি দিলেও, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে রাহুল সিংহ দলীয় কর্মীদের আইনের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান অনুযায়ী অপরাধীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে সবটাই হবে আইন মোতাবেক।

তৃণমূলের পাল্টা অবস্থান ও তদন্তের দাবি

এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসও সরব হয়েছে। পাল্টা অভিযোগ তুলে তারা জানিয়েছে, ভোট-পরবর্তী হিংসায় তাদেরও বেশ কয়েকজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। রাজনৈতিক সংঘাতের এই আবহে নিরপেক্ষতার স্বার্থে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে, যার প্রভাব আগামী দিনে শাসক-বিরোধী দ্বন্দ্বে আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *