চটির গুণগান করাই কি এখন চাকরির আসল যোগ্যতা? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে শুভেন্দুর তীব্র আক্রমণ
রাজ্যের কর্মসংস্থান ও আইপ্যাক (I-PAC) ইস্যুতে শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি এক নির্বাচনী জনসভায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইপ্যাক কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ওই সংস্থার কারোর চাকরি যাবে না এবং প্রয়োজনে তিনি নিজেই চাকরির ব্যবস্থা করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে পাল্টা তোপ দেগেছেন শুভেন্দু।
যোগ্যতা বনাম তোষামোদের বিতর্ক
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাস আসলে রাজ্যের মেধাবী চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি চরম অবমাননা। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন যে সরকারি বা আধা-সরকারি ক্ষেত্রে চাকরি পাওয়ার জন্য এখন আর শিক্ষাগত যোগ্যতা বা মেধার প্রয়োজন নেই। বরং শাসক দলের চাটুকারিতা বা তোষামোদ করাই হলো কর্মসংস্থানের প্রধান চাবিকাঠি।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া
বিরোধী দলনেতার এই আক্রমণ রাজ্যের চলমান নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুকে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে আইপ্যাকের মতো একটি ব্যক্তিগত সংস্থার কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শুভেন্দু এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তাই দিতে চাইছেন যে, বর্তমান সরকার মেধার বদলে রাজনৈতিক আনুগত্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- আইপ্যাক কর্মীদের চাকরি দেওয়ার বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাসের বিরোধিতা শুভেন্দু অধিকারীর।
- তোষামোদ করাকেই চাকরি পাওয়ার প্রধান মাপকাঠি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিরোধী দলনেতা।
- মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের ভিডিও পোস্ট করে মেধার অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
- নির্বাচনী আবহে নিয়োগ ও যোগ্যতা ইস্যুতে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু।