ঘৃণা নয়, ভালোবাসা: রাম নবমীর শোভাযাত্রায় সম্প্রীতির ছোঁয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা

ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগে রাম নবমীর শোভাযাত্রা চলাকালীন মৈত্রীর এক অভূতপূর্ব ছবি ফুটে উঠেছে। একটি মুসলিম জানাজা বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া মিছিলকে নির্বিঘ্নে যাওয়ার পথ করে দিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ডিজে সঙ্গীত ও বাদ্যযন্ত্র বন্ধ করে দেন উপস্থিত হিন্দু পুণ্যার্থীরা। গত ২৯ মার্চ এই ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

সৌহার্দ্যের হাজারিবাগ মডেল

রাম নবমীর উৎসবে যখন চারিদিক উচ্চৈঃস্বরে ডিজে ও গানের শব্দে মুখরিত ছিল, ঠিক তখনই একটি জনাজা প্রধান সড়কে এসে পৌঁছায়। সেই পবিত্র শোকযাত্রার প্রতি সম্মান জানিয়ে উৎসবের আনন্দ মুহূর্তের জন্য থামিয়ে দেওয়া হয়। পুণ্যার্থীরা কেবল বাজনাই বন্ধ করেননি, বরং জানাজাটি পার না হওয়া পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নিস্তব্ধতা পালন করেন এবং মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মানবিকতার জয়

সামাজিক অস্থিরতার সময়ে এই ঘটনাটি ভারতের ঐতিহ্যবাহী গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতির এক শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিজে ব্যবহারের ওপর কিছু বিধিনিষেধ থাকলেও, ভক্তদের এই উদ্যোগ ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং স্বতঃস্ফূর্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হাজারিবাগ বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পথে চলে এবং আনন্দ বা শোক—উভয় ক্ষেত্রেই একে অপরের ভাবাবেগকে সম্মান জানানো এখানে দস্তুর।

এই সৌজন্যমূলক আচরণ কেবল সমাজমাধ্যমে ‘হাজারিবাগ মডেল’ হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে না, বরং এটি প্রমাণ করে যে ধর্মীয় আচারের ঊর্ধ্বে মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আজও অটুট। এই ভিডিওর ইতিবাচক প্রভাব দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

সমাজমাধ্যমে এই ঘটনাটি ‘হাজারিবাগ মডেল’ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে ভাইরাল হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগে রাম নবমীর শোভাযাত্রায় মুসলিম জানাজাকে সসম্মানে যাওয়ার পথ করে দেওয়া হলো।

জানাজা দেখার সাথে সাথে হিন্দু পুণ্যার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ শব্দে বাজতে থাকা ডিজে ও বাদ্যযন্ত্র বন্ধ করে দেন।

পুণ্যার্থীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নিস্তব্ধতা পালন করে মৃত ব্যক্তির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *