খাবার খাচ্ছেন তো বিষ নয়? নামী রেস্তোরাঁ ও দোকানে ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ! – বর্তমান বাংলা

বর্তমান ডেস্কঃ
কলকাতার খাদ্যপ্রেমীদের জন্য উদ্বেগের খবর। শহরের ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় রেস্তোরাঁগুলোতে স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ভেজাল খাবারের পর্দাফাঁস করল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও পুর প্রশাসন। দমদম পার্কের বিখ্যাত ‘আর্সালান’ থেকে শুরু করে ডেকার্স লেন এবং পার্ক স্ট্রিটের মতো জনবহুল এলাকার একাধিক নামী খাবারের দোকানে অভিযানে গিয়ে মেলা মারাত্মক অনিয়মের ছবি।
দক্ষিণ দমদম পুরসভা, পুলিশ ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের যৌথ দল দমদম পার্কের ‘আর্সালান’ রেস্তোরাঁয় আচমকা হানা দিয়ে ফ্রিজে থরে থরে সাজানো বিপুল পরিমাণ পচা ও বাসী মাংস উদ্ধার করে। একই সঙ্গে রান্নায় ব্যবহৃত একাধিক মশলায় নিষিদ্ধ কৃত্রিম রঙের উপস্থিতি হাতেনাতে ধরা পড়ে। অন্যদিকে, কলকাতার বিখ্যাত স্ট্রিট ফুড হাব ডেকার্স লেনের একটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকানে গামলা ভর্তি মেখে রাখা সন্দেশে সাদা-কালো ফাঙ্গাস (ছাতা) পড়ে থাকতে দেখেন পরিদর্শকরা। নোংরা পরিবেশে রাখা সেই সন্দেশ সঙ্গে সঙ্গেই ফেলে নষ্ট করা হয়। সেখানকার চপ ও কাটলেটে ব্যবহৃত তেলের গুণমান পরীক্ষার জন্য নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।
পার্ক স্ট্রিটের মতো অভিজাত এলাকার ছবিটাও একই রকম হতাশাজনক। করিমস, ডন জিওভানি এবং তুংফং-এর মতো নামী রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে অভিযান চালিয়ে পচা মাংস, মেয়াদোত্তীর্ণ তেল, ছত্রাক ধরা আলু ও বেবিকর্ন উদ্ধার করেছেন আধিকারিকরা। এছাড়া মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত ছানার গুণমান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অনিয়মের অভিযোগে সোনারপুরের পরিচিত ‘বাবুর্চি’ রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গড়িয়ার একটি রেস্তোরাঁ, কামালগাজির মিষ্টির দোকান এবং ধনেখালির একটি আইসক্রিমের দোকান থেকেও উদ্ধার হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও বাসি খাবার।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে রাজ্যজুড়ে মোট ২,৩৩৭টি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও দোকানে এই কড়া নজরদারি চালানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় প্রশাসনের এই ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে।