ক্রিজে স্থির, তবুও বিধ্বংসী: ফুটওয়ার্ক ছাড়াই ছক্কা হাঁকান যারা

আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশেষ করে আইপিএলের মঞ্চে রান তোলার কৌশলে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান সময়ে বোলারদের শাসন করতে ব্যাটাররা এখন পায়ের কাজের (ফুটওয়ার্ক) চেয়ে হাতের পেশিশক্তি ও ব্যাটের দোদুল্যমান গতি বা ‘ব্যাটসুইং’-এর ওপর বেশি ভরসা করছেন। ক্রিজে স্থির থেকে অনেকটা গলফ খেলোয়াড়দের মতো হাত প্রসারিত করে বলকে সীমানার বাইরে পাঠানোই এখন নতুন ট্রেন্ড। পিচের ওপর সামনে-পেছনে খুব বেশি মুভমেন্ট না করেও কেবল শরীরের ভারসাম্য ও টাইমিং ব্যবহার করে ছক্কার বৃষ্টি ছুটিয়ে চলেছেন একঝাঁক তরুণ ও অভিজ্ঞ তারকা।

পেশিশক্তি ও কৌশলের মেলবন্ধন

এই তালিকায় সবথেকে আলোচিত নাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ওপেনার অভিষেক শর্মা। যুবরাজ সিং ও ব্রায়ান লারার পরামর্শে নিজের খেলার ধরন বদলে ফেলা এই বাঁহাতি ব্যাটার এখন ফুটওয়ার্কের তোয়াক্কা না করেই অনায়াসে কভারের ওপর দিয়ে লফটেড শট খেলছেন। একইভাবে রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছর বয়সী বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী এবং পাঞ্জাব কিংসের প্রিয়াংশ আর্য দেখিয়েছেন যে, বড় বড় পা না ফেলে কেবল হাতের নিখুঁত প্রসারণ বা ‘হ্যান্ড এক্সটেনশন’ দিয়েও মাঠের যেকোনো কোণ দিয়ে ছক্কা হাঁকানো সম্ভব।

স্পিন ও পেসের বিরুদ্ধে নতুন অস্ত্র

স্পিনারদের বিপক্ষে হেনরিখ ক্লাসেন এবং সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং কৌশল এখন অনেক বেশি কার্যকর। ক্লাসেন মূলত তার শক্তিশালী ‘বেস’ এবং হিপ ড্রাইভের সমন্বয়ে ব্যাকফুটে থেকেও বলকে গ্যালারিতে পাঠান। অন্যদিকে, রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন ও ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল বলের লেংথ দ্রুত বুঝে নিয়ে হাই ব্যাকলিফট ও শক্তিশালী ডাউনসুইংয়ের মাধ্যমে বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। এই ঘরানার ব্যাটিং বোলারদের লাইন-লেন্থ নষ্ট করে দিচ্ছে, কারণ ব্যাটাররা ক্রিজে স্থির থাকায় তাদের পরাস্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এক ঝলকে

  • আধুনিক ক্রিকেটে ফুটওয়ার্কের চেয়ে ‘ব্যাটসুইং’ ও ‘হ্যান্ড স্পিড’ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
  • অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশী স্থির থেকে গলফ স্টাইলে বড় শট খেলতে পারদর্শী।
  • হেনরিখ ক্লাসেন ও সঞ্জু স্যামসন স্পিন আক্রমণ রুখতে ব্যাকফুট ও টাইমিং ব্যবহার করছেন।
  • যশোস্বী জয়সওয়াল ও প্রিয়াংশ আর্য পাওয়ারফুল ডাউনসুইংয়ের মাধ্যমে পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান তুলছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *