“কাজ করলে মাথা নত করতে হয় না…” নতুন মুখ্যসচিবের সামনে কেন এই মন্তব্য?

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্নে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব ফেরাতে বড় পদক্ষেপ নিলেন নতুন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণের পর সব দপ্তরের সচিবদের নিয়ে আয়োজিত প্রথম বৈঠকেই আমলাদের নিরপেক্ষ ও নির্ভীক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ১৯৯০ ব্যাচের এই আইএএস আধিকারিক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নতুন জমানায় কাজ হবে কেবল নিয়মের ভিত্তিতে এবং সেখানে কোনো আপস করা হবে না।
আইএএস অফিসারদের উদ্দেশে মুখ্যসচিবের বার্তা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমি সবাইকে বলব শিরদাঁড়া শক্ত করে কাজ করুন। কাজ করলে শিরদাঁড়া বাঁকাতে হয় না। আপনারা আইএএস অফিসার, নিজের দায়িত্ব পালন করে যান।” মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পদ থেকে সরাসরি মুখ্যসচিবের চেয়ারে আসা মনোজ আগরওয়ালের এই মন্তব্যকে প্রশাসনের অন্দরে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও সংকল্প পত্র বাস্তবায়নে জোর
রাজ্যের প্রশাসনিক গতিমুখ বদলে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের থমকে থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। একইসঙ্গে বিজেপির ‘সংকল্প পত্রে’ থাকা ঘোষণাগুলো বাস্তবায়নে প্রতিটি দপ্তরকে দ্রুত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত জনকল্যাণমুখী কাজগুলোতে যাতে কোনো দীর্ঘসূত্রতা না থাকে, সেটিই এখন প্রশাসনের অগ্রাধিকার। এর আগে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জেলা প্রশাসনকে গরু, কয়লা ও বালি পাচার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং বেআইনি জবরদখল রুখতে মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া বার্তার রেশ ধরেই এবার আমলাতন্ত্রকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হলো।
প্রশাসনিক সংস্কার ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিগত জমানায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছিল, তা ঝেড়ে ফেলে একটি স্বচ্ছ ও জনমুখী পরিকাঠামো গড়ে তোলাই লক্ষ্য। বিধানসভা ভোট চলাকালীন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে মনোজ আগরওয়াল যেভাবে কঠোর হাতে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন, মুখ্যসচিব হিসেবে তাঁর এই নতুন ভূমিকা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। সুব্রত গুপ্তর মতো পোড়খাওয়া আমলাদের গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং মুখ্যসচিবের এই ‘শিরদাঁড়া’ তত্ত্ব আদতে দুর্নীতিমুক্ত ও গতিশীল প্রশাসন গড়ার একটি প্রচ্ছন্ন সতর্কতা ও রোডম্যাপ।