কলকাতায় সুরের মেলা: বিক্রম ঘোষের ‘নাদ’ ফেস্টিভ্যালে শাস্ত্রীয় ও ফিউশনের অভূতপূর্ব মেলবন্ধন – বর্তমান নিউজ

জি ডি বিড়লা সভাঘরে সম্প্রতি সম্পন্ন হলো তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ফিউশন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর ‘নাদ’। ভারতীয় বিদ্যাভবন এবং পণ্ডিত শঙ্কর ঘোষ তবলা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রখ্যাত ড্রাম মায়েস্ত্র বিক্রম ঘোষ। উৎসবের প্রথম দিন ‘ফেডিং ট্র্যাডিশন অ্যান্ড এমার্জিং সাউন্ড’ পর্বে ইন্দ্রায়ুধ মজুমদারের ইলেকট্রিক সরোদ এবং অভিষেক মল্লিকের ইলেকট্রিক সেতারে রাগ কিরওয়ানির মূর্ছনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়া আইপ্যাডে রাগ কাফি বাজিয়ে চমক দেন তরুণ প্রতিভা মহেশ রাঘবন।
দ্বিতীয় দিনের আকর্ষণ ছিল পণ্ডিত কুশল দাসের সেতার লহরী এবং ‘ডান্স অফ ইন্ডিয়া’ পর্বে প্রীতি প্যাটেল ও জয়া শীল ঘোষের নান্দনিক নৃত্যশৈলী। প্রখ্যাত বংশীবাদক পণ্ডিত রনু মজুমদার তাঁর বাঁশির সুরে আর ডি বর্মন ও সলিল চৌধুরীর কালজয়ী সৃষ্টিগুলোকে নতুন করে ফুটিয়ে তোলেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এই আধুনিক উপস্থাপনা প্রথাগত ধারার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের বাদ্যযন্ত্রের এক চমৎকার সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
উৎসবের শেষ দিনে পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্যের সন্তুর ও বিক্রম ঘোষের তবলার যুগলবন্দি এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে ‘ক্লাসি-ফোক কোলাব’ পর্বের মাধ্যমে, যেখানে রাজেশ বৈদ্যের বীণা এবং কল্পনা পাটোয়ারীর শক্তিশালী কণ্ঠের জাদুতে মেতে ওঠেন শ্রোতারা। বিক্রম ঘোষের তবলার সাথে ঢোল ও বাঁশির সংমিশ্রণে এই লোকসঙ্গীত ও শাস্ত্রীয় সুরের মিলনমেলাটি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।