কলকাতায় বেআইনি কসাইখানা বন্ধে তৎপর লালবাজার! গরু পাচার রুখতে থানাগুলোকে কড়া নির্দেশ
রাজ্যজুড়ে অবৈধ গবাদি পশু বাণিজ্য এবং পাচার রুখতে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিল নতুন সরকার। লালবাজারের পক্ষ থেকে শহরের সমস্ত থানাকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কোনোভাবেই এলাকায় বেআইনি গবাদি পশু পরিবহন বা মজুত করা যাবে না। বিশেষ করে কলকাতা পুরসভা এলাকায় অবৈধ গবাদি পশুর আস্তানা, শেড ও হাটবাজারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
লাইসেন্সহীন কারবার ও অবৈধ শেডে কড়া নজরদারি
পুলিশের জারি করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত বাজার ছাড়া অন্য কোথাও গবাদি পশুর কেনাবেচা করা যাবে না। বাণিজ্যিক যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে পশুর বৈধ কাগজপত্র ও ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। কলকাতা পুর এলাকায় গবাদি পশুর শেড তৈরির অনুমতি না থাকলেও বছরের পর বছর ধরে চলা অবৈধ আস্তানাগুলো এবার বন্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ‘পশ্চিমবঙ্গ গবাদি পশু লাইসেন্সিং আইন’ এবং ‘প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন’ কঠোরভাবে প্রয়োগ করার জন্য পুলিশ কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাচার রোধে কড়াকড়ি ও নতুন নিয়ম
সোমবার নবান্নে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গবাদি পশু পরিবহন ও জবাই সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করার ওপর বিশেষ জোর দেন। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ১৪ বছরের কম বয়সী গবাদি পশুর পরিবহন ও জবাই কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এ ছাড়া ১৪ বছরের বেশি বয়সী পশুর ক্ষেত্রেও পশুচিকিৎসা আধিকারিকদের লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বিএসএফ-এর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশকেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত রাজ্যে কোনো বেআইনি কসাইখানা বা পাচারচক্র যাতে সক্রিয় না থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।