কর্মহীনতার অজুহাতে মুক্তি নেই! স্ত্রী-সন্তানের খোরপোষে কড়া নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদন: শারীরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ‘বেকার’—এই অজুহাত দেখিয়ে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের আইনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে না। একটি গার্হস্থ্য হিংসার মামলার রায়ে এমনই কঠোর বার্তা দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্বামী কর্মহীন হলেও স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব তাঁরই।

মামলার প্রেক্ষাপট:

২০১৩ সালে বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন ওই মহিলা। সন্তানসম্ভবা অবস্থায় তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয় বলে অভিযোগ। ২০১৫ সাল থেকে তিনি সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকছেন। নিম্ন আদালত মহিলার আর্থিক সুরক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল এই যুক্তিতে যে, তিনি শিক্ষিত এবং নির্যাতনের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হয়নি। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ:

মামলার শুনানি চলাকালীন অতিরিক্ত দায়রা বিচারক শীতল চৌধুরি প্রধান বলেন, কর্মক্ষমতা থাকা এবং বাস্তবে উপার্জন করা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। স্বামী শারীরিকভাবে সক্ষম, তাই ‘বেকারত্বের দোহাই’ দিয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা এড়ানো সম্ভব নয়। এছাড়া, স্ত্রী যে নিজে উপার্জন করে সন্তানসহ নিজের খরচ চালানোর মতো অবস্থায় রয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণও স্বামী আদালতে পেশ করতে পারেননি।

আইনি রায়:

আদালত ওই ব্যক্তিকে নির্দেশ দিয়েছে, সন্তান সাবালক না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা খোরপোষ দিতে হবে।

কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ?

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক মামলায় স্বামীদের দায়িত্ব এড়ানোর যে প্রবণতা দেখা যায়, এই রায় তাতে শক্ত রাশ টানবে। বিশেষ করে আর্থিক অস্বচ্ছলতায় থাকা কর্মহীন স্ত্রী ও নাবালক সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *